সীমান্ত চুক্তির পর তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়টি সুরাহার ওপর দুই দেশ গুরুত্ব দিচ্ছে—অভিন্ন নদীর এ চুক্তি সইয়ের জন্য দুই দেশের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে কথা হচ্ছে—জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ।
সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
পঙ্কজ শরণ দুই দেশের সাম্প্রতিক সম্পর্কের অগ্রগতিকে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করে এ সম্পর্ককে আরো গতিশীল করতে ভারতের সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সীমান্ত সমস্যার সমাধান ও সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর দুই দেশের মধ্যে নতুন আস্থার সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে যা সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে— অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধানেও কাজ এগুচ্ছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত সমস্যার সমাধান ও সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর দুই দেশের মধ্যে নতুন আস্থার সম্পর্কের সৃষ্টি করেছে যা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, উন্নয়ন সহযোগিতা, জ্বালানি সহযোগিতা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে।
দুই দেশের মধ্যে ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ ভারতের হাইকমিশনার চারদেশীয় মোটরযান চুক্তির বিষয়ে বলেন চুক্তিটি নতুন সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত করেছে।
এসময় বিএসএফের গুলিতে ফেলানী হত্যার ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে পঙ্কজ শরণ বলেন, সীমান্ত হত্যা কীভাবে শূন্যে নামিয়ে আনা যায় সে বিষয়েও আলোচনা চলছে।
সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, সন্ত্রাস, চোরাচালান বন্ধে দুদেশকেই সতর্ক থাকতে হবে—এক সময় সীমান্তে হত্যার ঘটনা বেশি থাকলেও এখন তা অনেকাংশে কমে এসেছে এটাকে কিভাবে শূন্যে নামিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
ভিসা পদ্ধতি সহজ করতে বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিসা ব্যবস্থা সহজ ও ভোগান্তি কমাতে জেলা শহরে ভিসা অফিস খোলা হচ্ছে— এরইমধ্যে তিনটি জেলা শহরে নতুন ভিসা সেন্টার খোলা হয়েছে এতে করে মানুষ সহজেই ভিসা নিতে পারবেন।
ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধুমাত্র দুইদেশের সরকার এবং রাজনীতির মধ্যে আবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব চুক্তি হয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে দুদেশই আর্থিক, সামাজিকসহ সব বিষয়ে লাভবান হবে। ভারত চায় দুদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য যাতায়াতসহ সব কিছুই বৈধভাবে হোক।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-বিআইআইএসএস এর ধারাবাহিক আয়োজন কান্ট্রি লেকচারের সোমবারের বিষয় ছিল " বাংলাদেশ-ভারতের সাম্প্রতিক সম্পর্কের অগ্রগতি ও প্রত্যাশা"।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মুন্সি ফয়েজ আহমদের সঞ্চালনায় সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমান স্বাগত বক্তৃতা দেন।