নির্ধারিত সময়ের আগেই সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজির বেশিরভাগ সূচকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
এমডিজির অন্যতম সূচক দারিদ্র বিমোচনেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। ২৯ % লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে দারিদ্রের নেমে এসেছে ২৪.৮%।
বুধবার সকালে রাজধানীতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে সরকারের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ।
বাংলাদেশের এ অর্জনকে একটি রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি পলিন থেমিসেস।
এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দাতা সংস্থাগুলো প্রতিশ্রত সহায়তা না দিলেও বাংলাদেশ তার নিজের চেষ্টায় সফলতা অর্জন করছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
চলতি মাসেই এমডিজির জায়গায় এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার রুপরেখা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র বিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়নসহ ৮টি বিষয়কে সামনে রেখে ২০০০-২০১৫ সাল পর্যন্ত একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার। যা এমডিজি বা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নামে পরিচিত। এ পরিকল্পনার শেষ বছরে এসে এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে
সরকারের সাধারন অর্থনীতি বিভাগ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সাল শেষে দারিদ্রের হার ২৯% নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২৪. ৮এ।
তবে, এ সময়ে শতভাগ সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয়েছে ৯৭.৭ %।
নারী-পুরুষ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন এসেছে উল্লেখোযগ্য সাফল্য। বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ছাত্রর চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি।
শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে প্রতিহাজারে ৪৮ নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল বর্তমানে তা দাড়িয়েছে প্রতিহাজারে ৪১ জনে।
মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন, পরিবেশ উন্নয়নসহ বাকি চারটি সূচকেও বাংলাদেশের অর্জন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বেশ প্রশংসনীয়।
এমডিজির এসব লক্ষ্যপূরণে দাতাদের কাছ থেকে প্রতিবছর ৩০০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্ত বাস্তবে এসেছে প্রতি বছর গড়ে, ১৭৪ কোটি ডলার।