ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে ২ দিন আগেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীর অস্থায়ী কোরবানির হাটগুলোতে পশু আনা শুরু করেছে। গতবারের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর কেনা দাম বেশি পড়েছে বলে দাবি ব্যাপারীদের।
আর ভারতীয় গরু এবার না আসলে ভাল মুনাফার প্রত্যাশা তাদের। তবে ঢাকায় পশু আনার পথে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার রাজধানীর গাবতলীতে স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি ১৬টি অস্থায়ী হাট বসানো হয়েছে। অনুমোদিত হাটগুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১০টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬টি পশুর হাট বসছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার থেকে অস্থায়ী এসব হাটগুলোতে পশু উঠবে। তবে পুলিশের এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বৃহস্পতিবার থেকেই রাজধানীর ভেতরে অস্থায়ী হাটগুলোতে গরু আসতে শুরু করেছে।
কোরবানির পশু কিনতে আসা ক্রেতাদের দাবি হাটে পর্যাপ্ত পশু না আসায় বেশি দাম হাঁকছেন ব্যাপারীরা। গরুর কেনা দাম গতবারের তুলনায় অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যাপারীরা।
তবে ভারতীয় গরু না আসলে এবার পশুর দাম ভাল পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা। পশু ঢাকা নিয়ে আসার পথে কোথাও কোথাও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন তারা।
হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি জানালেন, মানবিক কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগে আসা ব্যাপারীদের হাটে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।
অনেক অনুমোদনহীন হাট গড়ে উঠছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন, হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।
এদিকে, ভোলায় জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট। গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রেতারা কোরবানীর পশুর দাম বেশি হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
আর বিক্রেতারা বলছেন, পশু খাদ্যের দাম ও পরিবহন খরচ বাড়তি। এদিকে, যশোর ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসায় ও দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় ক্রেতারাও ছুটছেন ভারতীয় গরু কিনতে। এতে লোকসানের আশঙ্কা করছেন দেশীয় গরুর খামারি আর ব্যবসায়ীরা।
আর এক সপ্তাহ পরই কোরবানির ঈদ। ভোলার বিভিন্ন জায়গায় বসা পশুর হাটগুলো এখন ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় সরগরম। চাহিদা অনুযায়ী পশুর সরবরাহ রয়েছে হাটগুলোতে।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, হটগুলোতে কোরবানির পশুর দাম অনেক বেশি। আর বিক্রেতারা বলছেন, খরচ বেশি হওয়ার কারণেই এ বাড়তি দাম।
হাটে নির্বিঘ্নে পশু কেনা-বেচা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
এছাড়াও যশোরের ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ভারতীয় গরু আসছে। দেশি গরুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও, দাম কম হওয়ার কারণে ক্রেতারা ভারতীয় গরুর দিকে ঝুকছেন। ফলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন দেশীয় গরু খামারি ও ব্যবসায়ীরা।
তবে যশোর কাস্টম এক্সাইজ অ্যাণ্ড ভ্যাট বিভাগীয় শুল্ক কর্মকর্তা হাসনাইন মাহমুদ বলেন, ভারত সরকারের কড়া নজরদারি থাকায় খুব বেশি গরু আসছে না।
ভারতীয় গরু আমদানি বন্ধ করা গেলে দেশীয় গরু খামারিরা লাভবান হবেন। পাশাপাশি এ ব্যবসার আরো প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।