জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত প্রভাবে বিশ্ব এখন নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন— এ পরিস্থিতির শিকার হয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রথম সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ।
দেশের জনগণকে এ ক্ষতির হাত থেকে যথাসম্ভব রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার আর এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের দিকে তাকিয়ে নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব, এটি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সরকার ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের গৃহীত পদক্ষেপসহ নানা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকা হাফিংটন পোস্ট-এর ব্লগে একটি নিবন্ধ লিখেছেন শেখ হাসিনা। নিবন্ধে এ মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত হয় নিবন্ধটি।
নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ। এর মধ্যেই বিশ্ব গ্রহণ করবে ‘এজেন্ডা ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ২০৩০’ নামের কর্মসূচি। বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্য ও এর প্রভাবের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এ বৈশ্বিক হুমকির সম্মুখভাগে রয়েছে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি (প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১ হাজার ২১৮ জন)। আবাদযোগ্য মাথাপিছু জমির পরিমাণের দিক থেকে এ দেশ নিম্নতম (.০৫ হেক্টর)। তবু আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি। চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার নানা রূপ, জোয়ার এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত দেশে কৃষি উৎপাদন, শিল্পের উন্নয়ন ও সামাজিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
এ অবস্থায় লাখ লাখ পরিবেশগত শরণার্থীর সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর দিকটি বিবেচনায় জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবদান উপেক্ষিত রয়ে গেছে। জরুরি পদক্ষেপ না নিলে এ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। গবেষণার অনুমান অনুযায়ী, সাগরপৃষ্ঠের এক মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের এক-পঞ্চমাংশ প্লাবিত হবে, যাতে গৃহহীন হবে তিন কোটির (৩০ মিলিয়ন) ওপর মানুষ। এতে শহরের দিকে মানুষের ঢল অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে, যা প্রভাব ফেলবে জীবনযাত্রা, জীববৈচিত্র্য, খাবার, পানি, পয়োনিষ্কাশন ও মৌলিক অবকাঠামোর ওপরে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আর এ জন্য সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজি) ও প্যারিসে জলবায়ু চুক্তি সই হওয়া এবং এর বাস্তবায়নের দিকে আমরা আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে আছি। কিন্তু দেশের জনগণকে বাঁচাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দিকে তাকিয়ে নেই। নিশ্চিতভাবেই সীমিত সম্পদ ও প্রযুক্তি নিয়ে আমরা নিজেরাই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।’