বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রধানের পদে ইকবাল মাহমুদকে নিয়োগের আদেশ দেয়ার এক মাসের মধ্যে তাতে পরিবর্তন করেছে সরকার।
বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক আদেশে প্রকৌশলী শাহজাহান মাহমুদকে বিটিআরসির পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের কথা জানিয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) বর্তমান চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসের মেয়াদ আগামী অক্টোবর মাসে শেষ হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী প্রকৌশলী শাহজাহান ওয়াশিংটন মেট্রো আওয়ামী লীগের সভাপতি।
শাহজাহান মাহমুদকে নিয়োগের আদেশে বলা হয়েছে, অন্য সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে ১১ মে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হলো।
বর্তমান চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসের মেয়াদ আগামী অক্টোবর মাসে শেষ হচ্ছে। তার উত্তরসূরি হিসেবে গত ২৫ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জ্যেষ্ঠ সচিব ইকবাল মাহমুদের নাম ঘোষণা করা হয়।
বিটিআরসি চেয়ারম্যানের পদটি সচিব পদমর্যাদার হওয়ায় ইকবাল মাহমুদ এতে যোগদানে অনাগ্রহী ছিলেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।
এরমধ্যেই বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইকবাল মাহমুদকে নিয়োগের আদেশ বাতিল করে—একই সঙ্গে শাহজাহান মাহমুদকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের আদেশ জারি করেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদ কাজ করে আসা ইকবাল মাহমুদ তার নিয়োগ আদেশ বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় কিছু বলতে রাজি হননি।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাবেক এ সচিব বলেন, সরকার যা আদেশ দেবে, তাই আমাদের পালন করতে হয়।
প্রসঙ্গত: ২০১২ সালে সরকার ‘জ্যেষ্ঠ সচিব’ নামে নতুন পদ সৃষ্টি করলে আরো সাতজনের সঙ্গে ইকবাল মাহমুদও ওই পদ পান। ওইসময় তিনি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব। ওই বছর নভেম্বরে তিনি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বিকল্প নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পান। গতবছর ডিসেম্বরে তার ওই দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয় এবং তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে যান।
বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) রয়েছেন। পিআরএল বাতিলের শর্তে ২৩ অক্টোবর থেকে তিন বছরের চুক্তিতে তাকে নিয়োগের আদেশ হয়েছিল যা এখন বাতিল হলো।