ঈদে রাজধানী থেকে ঘরে ফেরা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সড়ক পথের যাত্রীদের। একদিকে যানজটের কারণে সময়মত বাস আসছে না কাউন্টারে। অন্যদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত বাসভাড়া। এর মধ্যে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ভাড়া।
রাজধানীর গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ভাড়া অন্যান্য সময় নেয়া হয় ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। অথচ ঈদের আগের দিন এ ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই যাত্রীদের এক প্রকার জিম্মি করে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
অথচ মালিকপক্ষ অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার বিষয়টি বেমালুম অস্বীকার করছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি পুলিশকে জানালেও তাদেরকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। ক্যামেরার সামনে এ নিয়ে কোনো কথা বলতেও রাজি হয়নি কর্তব্যরতরা। পরে র্যা বের কন্ট্রোলরুমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় তাদেরকে।
এছাড়া যানজটের কারণে দূরপাল্লার বাসযাত্রীদেরও ভোগান্তি চরমে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাউন্টারে বসে থাকলেও বাসের দেখা মিলছে না।
এদিকে, বৈরি আবহাওয়া আর অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষ। নির্ধারিত গতির চেয়ে কম গতিতে ট্রেন চলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও মিলছে না কাঙ্খিত ট্রেন। এ বিড়ম্বনার মধ্যেও সবকিছু ছাপিয়ে ঘরে ফিরতে পারার আনন্দ সবার চোখেমুখে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার জানান, ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের এ দুর্ভোগ স্বাভাবিক।
ট্রেনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। কখনো বা এক ঘণ্টা, কখনো চার ঘণ্টার পর দেখা মিলছে কাঙ্খিত ট্রেনের। ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপে ট্রেনের টিকেট কেটেও নির্ধারিত সিটে বসতে পারছে না অনেকেই। যারা সিট পাননি তারা ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছেন ছাদে চড়ে ।
ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয়ের অভিযোগ থাকলেও ঈদে ঘরে ফিরতে পারার আনন্দ সবার চোখে মুখে।
তবে শিডিউল বিপর্যয়ের জন্য অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ আর বৈরি আবহাওয়াকেই দায়ী করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার।