বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান কোনো দিন হবে না— যেকোনো হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তার সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
রোববার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের হিল্টন হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের এগিয়ে চলা কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না— দেশটি বিশ্ব সভায় মর্যাদার স্থান অর্জন করেছে। এখন আর অভাব ও হাহাকারের দেশ নয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশের প্রথম ধাপে পৌঁছেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে।
শেখ হাসিনা তার সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নত দেশ হিসাবে মর্যাদা পেত। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে সে সম্ভাবনা রুখে দেয়া হয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ড একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী বাঙালি জাতির মাথা হেঁট করে দিয়েছিল। সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে জাতিকে বিদেশের সামনে হেয় করা হয়েছিল। খুনিদের জিয়াউর রহমান বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন বলে জানান তিনি।
এ বছরের প্রথম তিন মাসের বিএনপির আন্দোলনের সময় জ্বালাও-পোড়াওয়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদারেরা যেভাবে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মেরেছিল খালেদা জিয়া ঠিক একইভাবে মানুষদের পুড়িয়ে মেরেছে। বিএনপি নানা ভাবে চেষ্টা করেছে ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল করতে।
বিএনপি চেয়ারপারসন দলীয় কার্যালয়ে ৯২-দিন কাটিয়েছেন মানুষ খুনের নেতৃত্ব দিতে— কার্যালয় বসে মানুষ পোড়ানো, মানুষ হত্যা করা, এই কাজই তিনি করেছিলেন জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওনার (খালেদা জিয়া) পাকি-প্রেম, তিনি আর ভুলতে পারেননি। খালেদা বাংলাদেশ বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেধেছেন, বাংলাদেশের কল্যাণ তিনি চান না।’ তিনি বলেন, বিএনপি নেতৃত্ব বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হোক, তা চায় না। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বলেছিলেন খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হওয়া ভালো না, কারণ তাহলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যাবে না। এর অর্থ, বাংলাদেশ সারা জীবন ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বেড়াবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে না, এটাই ছিল বিএনপির নীতি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৭-এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন, তাকে দেশে ফিরতে না দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। দেশে ফিরলে কারাগারে যেতে হতে পারে, বা মৃত্যু হতে পারে, তা জানা সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরেছিলেন।
তার শাসনামলে বাংলাদেশ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, শেখ হাসিনা তার বিবরণ দেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও বিদ্যুৎ সহ অর্থনীতির সব শাখায় বাংলাদেশ দৃষ্টান্তমূলক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ডাকঘর ডিজিটাইজ করা হচ্ছে। ১৬ হাজারের মত স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ৩০-৩২ রকমের ওষুধ বিনা মূল্যে দেয়া হচ্ছে। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সাফল্য লক্ষণীয়।
প্রধানমন্ত্রী ভারত-বাংলাদেশ স্থল সীমান্ত চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, ছিটমহলের অধিবাসীরা দীর্ঘ ৬৮ বছর অধিকারহীন ছিল, তার সরকার সে সমস্যার সমাধান করেছে। এ ব্যাপারে মোদি সরকারের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ স্থল চুক্তিটি ভারতীয় পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে, যা ভারতের ইতিহাসে বিরল। সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়টি তাঁর সরকারের অর্জন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিমানের বহর বাড়ানো হচ্ছে। চলতি বছরেই আরও ছয়টি নতুন বিমান কেনা হবে। এই সফরে মার্কিন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সময় তিনি বোয়িং কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিউইয়র্কে বিমানের অবতরণে সাহায্য করতে অনুরোধ করেছেন। হাসিনা বলেন, ‘আমার নিজেরই ভালো লাগবে যদি আমি নিজের দেশের বিমানে করে এখানে নামতে পারি।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠেন। বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী উপদলে বিভক্ত দলটির কোনো কোনো নেতা উপস্থিত দলীয় কর্মীদের ‘ভুয়া ভুয়া’ বিদ্রূপাত্মক স্লোগানের মুখে বক্তৃতা না দিয়েই মঞ্চ ত্যাগ করেন।