সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হয়ে নিহতের মধ্য ২৬ বাংলাদেশি হাজির তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ।
রাষ্ট্রদূত আরো জানান, নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের শনাক্ত করার পর তিন জনের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এখনো ৫২ জন বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ থেকে হজ করতে গিয়ে মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত কুরমত আলীর বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। এছাড়া ওই পদদলনের ঘটনায় নিখোঁজ সাভার পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজি আমিনুর রহমানের মৃত্যুর খবর বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল প্রকাশ করেছে।
তবে তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রকাশিত নিহতের ছবিটি আমিনুর রহমানের নয়। তার খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা।
স্ত্রী আসমা খাতুনকে নিয়ে সৌদি আরবের হজ পালন করতে যান দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেরার ছাতইল গ্রামের কুরমত আলী। বৃহস্পতিবার রাতে হজ টিমের মোয়াল্লেম তহিদুল ইসলাম কুরমত আলীর বাড়িতে ফোন দেন। মিনায় পদদলনের ঘটনায় আসমা খাতুন অক্ষত থাকলেও কুরমত আলীর মৃত্যুর খবর জানান তিনি। এদিকে, এ মৃত্যুর খবরে নিহতের বাড়িতে এখন শুধুই আহাজারি।
এদিকে, কুরমত আলীর মৃত্যুর ব্যাপারে সরকারিভাবে কিছু না জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভাই আহসান আলী।
সেইসঙ্গে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন কুরমত আলীর ছেলে কামাল হোসেন।
এদিকে, এ ঘটনায় সাভার পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুর রহমান নিখোঁজ না মৃত তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্ত্রী আলেমা বেগমকে নিয়ে হজে যান তিনি। পদদলনের ঘটনার পর থেকে তারা দুজনেই নিখোঁজ আছেন। তবে রোববার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আমিনুর রহমানের ছবিসহ মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে।
তবে পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রকাশিত ছবিটি আমিনুর রহমানের নয়। বাবা-মা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি সন্তানদের। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানান ছোট ছেলে আতিকুর রহমান সজিব।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিনায় পদপিষ্ট হয়ে ৭৬৯ জন হাজির মৃত্যু হয়। আর আহত হন ৯৩৪ জন। এদের মধ্যে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ আছেন ৯৮ জন বাংলাদেশি। এবছর হজ পালন করতে ১ লাখ ৬ হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরব যান।