বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র নৌ বাহিনীর মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক ও সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষে যৌথ সমুদ্র মহড়া এ মাস থেকে শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে নৌ সদরদপ্তরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
দুই দেশের যুদ্ধ জাহাজের অংশগ্রহণে পাঁচ দিনের এ মহড়া চট্টগ্রামে নৌ ঘাঁটি ঈশা খাঁ পয়েন্ট থেকে শুরু হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দুদেশের নৌ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পারস্পারিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়বে বলে উল্লেখ করা হয়।
জলদস্যুতা, চোরাচালান বন্ধসহ সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা এবং বন্দর নিরাপত্তা কার্যক্রমে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষে যৌথ সমুদ্র মহড়া এক্সসারসাইজ কো-অপারেশন অ্যাফ্লোট রেডিনেস অ্যান্ড ট্রেইনিং-ক্যারাট এ অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী। এটি দুই দেশের পঞ্চম যৌথ সমুদ্র মহড়া।
মঙ্গলবার সকালে নৌ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুদেদেশের নৌ বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মহড়ার নানা দিক তুলে ধরেন।
তারা বলেন, সমুদ্র মহড়ায় বিভিন্ন নৌ কৌশল, সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জরুরি চিকিৎসা সেবা দেয়া, সমর আইনের ব্যবহার এবং মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার পরিচালনার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
প্রথম ধাপে পোতাশ্রয় পর্বে নৌঘাটি ও জাহাজে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহড়া ও প্রশিক্ষণ হবে। দ্বিতীয় ধাপ সমুদ্র পর্বে দুই দেশের যুদ্ধ জাহাজসমুহের অংশগ্রহণে বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ মহড়ার মাধ্যমে দুদেশের নৌবাহিনীর সদস্যদের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি পারস্পারিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশের সমুদ্র সীমায় নৌ ঘাঁটি স্থাপনের কোনও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র নৌ বাহিনীর রিয়াল এডমিরাল চার্লস উইলিয়াম।
যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, কম্বোডিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত এ ধরনের সমুদ্র মহড়া করে । ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে মহড়ায় অংশ নিচ্ছে তারা। ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নৌ ঘাঁটি ঈশা খা পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া এই মহড়া শেষ হবে ৪ অক্টোবর।