এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনসহ সকল উৎস থেকে সম্পদ সংগ্রহ করার প্রয়োজন—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অন্যথায় ওডিএর লক্ষ্য পূরণ করতে শুরু থেকেই খুবই সমস্যা হবে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এমডিজি ও এসডিজির ওপর এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এটি বাস্তবায়নের উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
এমজিডি অর্জনের মতো এসডিজিও অর্জন করে বাংলাদেশ আরো একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ যাত্রায় কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন ও জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক সমর্থন প্রয়োজন। বাংলাদেশে বিশেষ করে স্বাস্থ্য, কৃষি, জ্বালানি ও পরিবহনের মতো সেক্টরগুলোতে পরিবেশ উপযোগি প্রযুক্তি প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি উন্নয়ন বিস্ময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় অনেক বেশি অগ্রগতি হয়েছে। অনেক উন্নয়ন চিন্তাবিদদের ধারণা বাংলাদেশ ভুল প্রমাণিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী এমডিজি অর্জনের সাফল্যের কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘এমডিজি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ এমডিজির কাঠামোর আলোকে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সমন্বয় করেছিল। আমরা চেয়েছিলাম, আমাদের জাতীয় প্রত্যাশা পূরণে এমডিজির লক্ষ্য যেন আমাদেরকে সহায়তা করতে পারে। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের জাতীয় সম্পদ সংগ্রহ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছি। আমাদের জনগণকে ক্ষমতায়ন করেছি। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক ভিত্তির মাধ্যমে অংশীদারিত্বে সম্পৃক্ত করেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, এমডিজির সময় বাংলাদেশে চরম দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। মৌলিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বিগত ছয় বছরে বৈশ্বিক মন্দাবস্থা সত্ত্বেও আমাদের জিডিপি ৬ শতাংশের বেশি ছিল।
গত দশকে দেশের রপ্তানি তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে— বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৭% বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বছর বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংকের নিম্ন মধ্যম আয়ের মর্যাদা লাভ করেছে। বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের, অটিজম এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধিসহ অতিদরিদ্র লোকদের রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি।
প্রযুক্তিকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। বাংলাদেশের মানুষ ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল কেন্দ্র থেকে দু’শতাধিক সেবা গ্রহণ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সকল জাতীয় পরিকল্পনায় জনগণকে সম্পৃক্ত করেছে। এর অংশ হিসেবে পরিকল্পনা কমিশন নতুন বৈশ্বিক এজেন্ডা নিয়ে পরবর্তী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) প্রণয়ন করছে। তিনি এই পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন ও সমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সমন্বয় কৌশল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। সূত্র: বাসস