সৌদি আবের মিনায় পদদলনে নিহত হওয়ার ঘটনায় এ পর্যন্ত বাংলাদেশি ৪১ হাজির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ১৮ জনের পরিচয় , ১২ জনের নাম পাওয়া গেছে। নাম জানা যায়নি ১১ জনের।
এর আগে গতকাল সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে ছয়টি কবরস্থানে মোট ৭৪ হাজার ৭০০ কবর প্রস্তুতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে মিনায় নিহতদেরও দাফনের ব্যবস্থা হবে। মক্কা সচিবালয়ের মুখপাত্র ওসামা জয়তুনকে উদ্ধৃত করে আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তবে কারও স্বজন মরদেহ দেশে নিয়ে যেতে চাইলে সৌদি সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে— আর কেউ সেখানেই দাফন চাইলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সৌদি গেজেটে জানানো হয়েছে, প্রতিবছর হজের সময় মুসল্লিদের অস্থায়ী আবাস হিসাবে মিনায় বসানো হয় লাখ লাখ তাবু। এবারও এক লাখ ৬০০ হাজারের বেশি তাবুতে ১৪৪ ঘণ্টা অবস্থান করেছেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হজযাত্রীরা।
হজ শেষে এখন খুলে ফেলা হচ্ছে সেসব তাবু। রোববার পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিজের দেশের উদ্দেশে সৌদি আরব ছেড়েছেন। রওনা হওয়ার অপেক্ষায় মদিনায় অবস্থান করছেন আরো ছয় লাখ।
হজ শেষে অতিরিক্ত সময় সৌদি আরবে অবস্থান না করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জাওয়াজাত)। হজ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সৌদিতে থেকে যাওয়া কেউ ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এরইমধ্যে প্রায় ৫ লাখ হাজি মিনা থেকে মক্কায় ফিরে গেছেন। সেখান থেকে তারা যাবেন নিজ নিজ দেশে। অনেকেই মদিনায় মহানবীর (সা.) রওজা জিয়ারতে গেছেন।
এখন মিনাকে আগের চেহারায় ফিরিয়ে নিতে কাজ করছেন ১৩ হাজারের বেশি কর্মী। তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মিনাকে আগামী বছরের হজের জন্য প্রস্তুত করবেন। একবছর বাদে আবারও মুখরিত হবে মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা।
এবার সবমিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ মুসলমান সৌদি আরবে হজ করেছেন। হজ শুরুর আগে মসজিদুল হারামে ক্রেইন উল্টে শতাধিক মানুষের মৃত্যু, হোটেলে অগ্নিকাণ্ড এবং সবশেষে মিনায় পদদলনে ৭ শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর এখনও গণমাধ্যমে সরব হয়ে আছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে মিনা থেকে জামারায় প্রতীকী শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মারার সময় পদদলনের ঘটনায় ৭৬৯ জনের মৃত্যু হন।
নিহতদের মধ্যে ৪১ জন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে সরকার। আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৩ জন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে।
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর মক্কার কাবা শরীফ ঘিরে থাকা মসজিদুল হারামে ক্রেইন উল্টে ১১৭ জন নিহত হন। এর এক সপ্তাহের মাথায় মক্কার কাছে আল আজিজিয়া এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে আগুন; তবে সেখানে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।