একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমাণ্ডার সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন ও মোসলেম প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
বুধবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের দুই জনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৬ ধরনের অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়া হবে। এর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) তৈরি করে দাখিল করবে ট্রাইব্যুনালে।
বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে ট্রাইব্যুনাল-১ এ।
এদিকে, হোসাইন-মোসলেমের বিরুদ্ধে একসঙ্গে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, আটক, অপহরণ ও নির্যাতনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ৬২ জনকে হত্যা-গণহত্যা, ১১ জনকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতন এবং ২৫০টি বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) হরি দেবনাথ গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে গত ৭ সেপ্টেম্বর পযন্ত দীর্ঘ নয় মাস ২৫ দিন তাদের অপরাধের তদন্ত শেষ করেন।
তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে, হোসাইন-মোসলেমের বিরুদ্ধে মূল ১৬১ পৃষ্ঠার সঙ্গে সর্বমোট ৪৩৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র রয়েছে।
প্রতিবেদনে সাক্ষীর জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্র ও সূচি এবং ঘটনাস্থলের স্থিরচিত্র দাখিল করা হবে প্রসিকিউশনে।
আর তদন্ত চলাকালে ৬০ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে আর দুই আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন ৬০ জন সাক্ষী।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই বিরুদ্ধে রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মো. হুসাইন ও তার সহযোগী মোহাম্মদ মোসলেম প্রধানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর নিকলি উপজেলার কামারহাটি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোসলেমকে গ্রেপ্তার করা হলেও হোসাইন এখনো পলাতক রয়েছে।