নারীদের জন্য বিনিয়োগ করা উচিত— যা যে কোনো দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সবচেয়ে কার্যকর কৌশলগুলোর অন্যতম, বাংলাদেশের মতো কয়েকটি দেশ কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় এ কথা বলেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।
শুক্রবার পেরুর রাজধানী লিমায় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি এ প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, তারা যদি এই ধারা অব্যাহত রাখে তাহলে আগামী দশকে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ৩৪ থেকে ৮২ শতাংশে উন্নীত হবে, যা তাদের জিডিপিতে ১ দশমিক ৮ শতাংশ যোগ করবে।
লিমা কনভেনশন সেন্টারে বিশ্বব্যাংকের ১৮৮টি সদস্য দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রায় দশ হাজার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বাংলাদেশের এই প্রশংশা করেন বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থার প্রধান।
এ সময় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন প্রতিবেশী দেশ ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, এর আগে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফের প্রধানরা কোনো দেশকে নিয়ে এ ধরনের প্রশংসাসূচক কথা বলেননি। এটা আমাদের জন্য গর্বের। এতো লোকের মধ্যে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রশংসা করলেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে সত্যিই ভালো লাগছে।
তবে এখানে একটি কথা বলতে চাই, আমরা আমাদের নারীদের উন্নয়নে যা কিছু করেছি তার সবই নিজেদের বুদ্ধিতে করেছি। নিজের টাকায় করেছি বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পে প্রায় ৪০ লাখের মতো শ্রমিক কাজ করে, যার ৮০ শতাংশেরই বেশি নারী শ্রমিক।
আর এই খাত থেকে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় এসেছে, যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে বেশ কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেন। রোববার শেষ হবে এই সম্মেলন।