দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন বন্ধে বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপের সত্যতা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার বিশেষজ্ঞ দল রোববার বৈঠকে বসেছে।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বৈঠকে কথাটি নিশ্চিত করেছেন। বেলা সাড়ে ১২টায় সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে শুরু হয়েছে প্রথম দিনের এ বৈঠকটি।
দুদক সূত্র জানা গেছে, সাত সদস্যের আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং বিশেষজ্ঞ দলের (এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ-এপিজি) সঙ্গে বৈঠকের প্রথম অধিবেশনে রয়েছেন দুদকের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান, কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন, কমিশনার (অনুসন্ধান) নাসির উদ্দীন আহমেদ, দুদকের মহাপরিচালকগণ, দুদকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ ব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল ইউনিটের সদস্যরা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ (সিআইডি) বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।
এপিজির সঙ্গে দিনব্যাপী এ বৈঠকে দুদকের কর্মকাণ্ড, অর্থ পাচার-সংক্রান্ত দুদকের অনুসন্ধান ও মামলাসহ নানা বিষয় বিশেষজ্ঞদের সামনে তুলে ধরা হবে। আগামী মঙ্গলবার আবারো দুদকের সঙ্গে বসবে প্রতিনিধিদলটি।
দুই সপ্তাহের সফরে বিশেষজ্ঞ দলটি দুদক ছাড়াও অর্থ, পররাষ্ট্র, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বিগত ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় নাম ছিল বাংলাদেশের। তবে বিশ্বের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণকারী সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সংস্থাটির নজরদারির মধ্যে পড়ে বাংলাদেশ। এ সময় তারা ৪০টি শর্ত প্রতিপালনের পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে সংস্থাটি তাদের দেয়া শর্ত ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তারও মূল্যায়ন করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সরকার নানা পদক্ষেপ নেয় এবং ওইসব তথ্য সংস্থাটিকে সরবরাহ করে। ফলে বাংলাদেশ মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়নে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকা থেকে ২০১৪ সালে বের হয়ে আসে। ওই সময়ে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ সত্যিকার অর্থেই যথাযথ ছিল কি না, তা সরেজমিন খতিয়ে দেখতেই ঢাকায় এসেছে মানি লন্ডারিং রোধ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ দলটি।