ঢাকায় সফররত এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজি) প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠক করেছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে দুদকের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত রোববার এপিজি সচিবালয়ের কর্মকর্তা ডেভিড শ্যাননের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধি দলটি দুদকের সঙ্গে দিনব্যাপী বৈঠক করেছে।
মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপের সত্যতা যাচাইয়ে গত শনিবার দুই সপ্তাহের সফরে ঢাকা আসে দলটি।
বিশেষজ্ঞ দলটি দুদক ছাড়াও অর্থ, পররাষ্ট্র, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এনবিআর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ, ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় নাম ছিল বাংলাদেশের। তবে বিশ্বের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণকারী সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সের (এফএটিএফ) সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সংস্থাটির নজরদারির মধ্যে পড়ে বাংলাদেশ। এ সময় তারা ৪০টি শর্ত প্রতিপালনের পরামর্শ দেয়। একই সঙ্গে সংস্থাটি তাদের দেয়া শর্ত ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না এরও মূল্যায়ন করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সরকার নানা পদক্ষেপ নেয়। সেসব তথ্য সংস্থাটিকে সরবরাহ করে। এতে বাংলাদেশ মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়নে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকা থেকে ২০১৪ সালে বের হয়ে আসে। ওই সময়ে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ সত্যিকার অর্থেই যথাযথ ছিল কি না, তা সরেজমিন খতিয়ে দেখতেই ঢাকায় এসেছে মানি লন্ডারিং রোধ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ দলটি।