বিনা ‘ফি’তে প্রবাসীদের দেশে রেমিটেন্স পাঠানোর সুযোগ করে দিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডি।
বুধবার সকালে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় এ পরামর্শ দেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক, ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
এতে করে বৈধ পথে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হবে বলে জানান তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে সিডিউল ব্যাংকে পরিণত করতে পারলে প্রবাসীরা সহজে দেশে রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন। আর ব্যাংকের বাইরে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরো সহজ ও নিরাপদ করতে পারলে বৈধ পথে রেমিটেন্সের প্রবাহ বাড়বে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৯০ লাখেরও বেশি প্রবাসী রয়েছেন যাদের বেশিরভাগই স্বল্প শিক্ষিত অদক্ষ কর্মী। বছরে প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি। অথচ এই আয়ের বড় অংশ এখনো আসে হুণ্ডির মতো অবৈধ উপায়ে। রাজধানীতে এ বিষয়ে এক আলোচনায় মাত্র ৬০% প্রবাসী শ্রমিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে বলে জানায় সিপিডি।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকে রূপান্তরিত করতে পারলে প্রবাসীদের বিনা খরচে রেমিটেন্সসহ অন্যান্য সেবা দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।
তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাতে খরচ বেশি হওয়ায় বৈধ পথে রেমিটেন্সের পুরোটা আসছে না বলে জানান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।
আর প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের শিক্ষায় কিছুটা পিছিয়ে থাকাকেও লক্ষ্য অনুযায়ী রেমিটেন্স অর্জন করতে না পারার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রীআ হ ম মোস্তফা কামাল।
অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা যথেষ্ট কর্মঠ হলেও ভাষাগত দক্ষতা আর কারিগরি জ্ঞান কম থাকায় তারা ভালো কাজ পায় না। এজন্য শ্রমিকদের করিগরি দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভাষাগত প্রশিক্ষণ দেয়ার ওপরও জোর দিতে হবে বলে জানান তিনি।
প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থের বেশির ভাগই খরচ হয় জমি কেনা, বাড়ি তৈরি, আসবাবপত্র ও বিলাসদ্রব্য কেনার মতো অনুৎপাদনশীল খাতে। এ বিষয়ে তাদের সচেতন করে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে উৎসাহী করার পরামর্শ দেন আলোচকরা।
রেমিটেন্স বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রবাসী শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
আলোচনায়বাজেটে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়েছে।