দশম জাতীয় সংসদের কার্যক্রম হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সটারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি।
সংসদের ৫টি অধিবেশনে নির্ধারিত সময়ে কোরাম পুরণ না হওয়ায় প্রায় সাড়ে ৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রোববার সকালে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে, চলতি সংসদের ২য় থেকে ৬ষ্ঠ অধিবেশনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে তারা এ মতামত তুলে ধরে।
টিআইবির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব অধিবেশনে সংসদ কার্যক্রমে প্রাধান্য পেয়েছে সরকারি দলের প্রস্তুতি আর সংসদের বাইরের রাজনৈতিক দলের সমালোচনা। আর তথাকথিত বিরোধীদল ব্যস্ত সরকারের লেজুড়বৃত্তিতে।
গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে বিতর্কিত মন্তব্য করে সংসদকে কার্যকর করতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
গতবছরের ২০১৪ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত জাতীয় সংসদের ৫টি অধিবেশনের কার্যক্রম নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরে টিআইবি।
এতে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব আইন প্রণয়নকালে মাত্র ২৯ জন বা ৮% সংসদ সদস্য এসংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নেন।
অপরদিকে বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা ব্যস্ত ছিলেন সংসদের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা ও সরকারের প্রসংশায়।
টিআইবি জানিয়েছে, এ সংসদে সরকারের প্রশংসা ও সংসদের বাইরের দলের সমালোচনা আতিতের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারিজ্জামানের মতে, সংসদ তার মুল কাজ আইন প্রণয়ন থেকে সরে এসে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
তার মতে, সংসদকে কার্যকর করতে দরকার একটি শক্তিশালি বিরোধী দল। আর এর জন্য দরকার একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।