দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে বাঁধাগ্রস্ত করতে খুলনার বাগেরহাটে রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন বিভ্রান্তমুলক তথ্য প্রচার ও কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। পরিবেশ ধ্বংস হবে বলে যেসব দাবিতে আন্দোলন করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন ও দেশের স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার বিকালে বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আবারো বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইন মেনেই রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।
এ সময় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক উত্তম ভট্টাচার্য্য বলেন, রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চুক্তি অনুযায়ী এ প্রকল্পের ১৫ ভাগ অর্থায়ন করবে পিডিবি, ১৫ ভাগ ভারতের এনটিপিসি আর বাকি ৭০ ভাগ ঋণ নেয়া হবে। যে লাভ হবে তা ভাগ হবে ৫০% হারে। খরচ অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ হবে।
ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে সুন্দরবনের কাছে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় কয়লা-ভিত্তিক ১ হাজার ৩শ ২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রকল্প গ্রহণের পর থেকেই পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার ছাই ও উৎপন্ন গ্যাসের কারণে বায়ু ও পানি দূষণ হবে, গাছপালার স্বাভাবিক বৃদ্ধি হ্রাস ও জীববৈচিত্রের ক্ষতি এবং আশপাশের এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হতে পারে। এসব ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই সুন্দরবন রক্ষায় এ প্রকল্প সরিয়ে নেয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।