বাংলাদেশে আদৌ আইএসের কোনো কর্মকাণ্ড আছে কি না সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত না হলেও বিষয়টি ‘খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মুখপাত্র জন কারবি।
তিনি বলেন, সম্প্রতি দুই বিদেশি হত্যায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ‘ঘনিষ্টভাবে কাজ করছে।
ব্রিফিংয়ে সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইএস বাংলাদেশে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে কি না- তা বলা কঠিন তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার মত অবস্থানে আমি নেই। তবে এখন একটি তদন্ত চলছে, আমরাও চাই.. যদি কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়, আমরা তা করতে চাই।
জন কারবি বলেন, কারা দায়ী তা খুঁজে বের করার দায়িত্ব বাংলদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে আমি মনে করি, আইএস এর দায় স্বীকারের দাবির বিষয়টি আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিৎ; আর আমরা তাই করছি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টির তদন্ত করে নিজেরাই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাক।
তিনি আরো বলেন, দোষীদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশ সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীদের সঙ্গে আমরা ঘনিষ্টভাবে কাজ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে থেকে এসব ঘটনার সঙ্গে আইএসের সংশ্লিষ্টতা বা দায় স্বীকারের দাবির কোনো ভিত্তি গোয়েন্দারা খুঁজে পাননি।
এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সরকারকে চাপে ফেলতে পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে আইএসবিরোধী যুদ্ধে নেতৃত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলা ও হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সেই সঙ্গে আরও হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের চলাফেরায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির দূতাবাস।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই’ তাদের এ সতর্কতা।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, হুমকির বিষয়ে তেমন কোনো তথ্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দিতে পারেনি।
উল্লেখ, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজার ও ৩ অক্টোবর রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে একই কায়দায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
এরপর গত ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার হোসাইনী দালানে আশুরার তাজিয়া মিছিলে প্রস্তুতির সময় বোমা হামলার দায়ও আইএস স্বীকার করেছে বলে ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’ দাবি করে।