যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’ ৭১।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী।
যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের অবমাননা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতারা।
যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নির্লজ্জ দালালি বন্ধ করার দাবির’—ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে তিনি বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মিথ্যা বলেছে— সংগঠনটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আন্দোলন করা হবে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে এটি তারই একটি অংশ বলে অভিমত ফোরামের নেতাদের।
এসময় তারা মুক্তিযুদ্ধে যেসব পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তা যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের বিচার দাবি জানান।
ফোরামের মহাসচিব হারুণ হাবীব বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যদি দ্রুত তাদের বিবৃতি প্রত্যাহার না করে তাহলে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে ফোরাম।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের শাস্তির দাবি জানিয়ে সংগঠনটি যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে তারজন্য বাংলাদেশে এর সকল কাযক্রম নিষিদ্ধ করা উচিত।
তিনি আরো বলেন, অ্যামনেস্টির এ বিবৃতি বাংলাদেশের ইতিহাস পাল্টে দেয়ার শামিল।
মানববন্ধন বক্তারা বাংলাদেশে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সব কার্যক্রম বন্ধ করারও দাবি জানান।
এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে বিচারের শেষ প্রান্তে এসে পাঁচজন পাকিস্তানির সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার আগ্রহ প্রকাশের প্রতিবাদ জানানো হয়। এটাকে তারা নতুন ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন।
মানববন্ধন বক্তব্য দেন ফোরামের সহ সভাপতি লে. জেনারেল (অব.) এম হারুন-অর-রশিদ, ম. হামিদ, ও আনোয়ারুল আলম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান প্রমুখ।
গত বুধবার এক বিবৃতিতে লন্ডনভিত্তিক বিতর্কিত মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মন্তব্য করে, জামাত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিটি) দেয়া মৃত্যুদণ্ড ‘ন্যায়বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড- রক্ষায় ব্যর্থ।
সরকার চাচ্ছে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করতে আর তাই তাদের আপিল (রিভিউ) দ্রুত হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাতিসংঘ বলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ন্যায়বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। একই বিবৃতিতে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করে অ্যামনেস্টি।
ওই বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে গণজাগরণ মঞ্চ বলছে, এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে চায়।