ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লেখালেখির অভিযোগে চলতি বছর ধরে এ পর্যন্ত ৬ ব্লগারকে হত্যা করেছে ধর্মীয় উগ্রপন্থি দুর্বৃত্তরা।
বিগত ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরেই খুন হয়েছেন ৫ জন। দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন। নিরাপত্তার অভাবে এরইমধ্যে অনেক ব্লগার দেশ ছেড়ে বিদেশের মাটিতে পাড়ি দিয়েছেন।
জামাত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীর শাহবাগ চত্বর। গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানারে সেই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল ব্লগারদের।
এরই জেরধরে আন্দোলন শুরুর মাত্র কয়েকদিনের মাথায় ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পল্লবী এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজীব হায়দার নামে এক ব্লগারকে। এরপরই শুরু হয় দেশজুড়ে ব্লগার হত্যার কালো অধ্যায়। যদিও রাজীবকে হত্যার আগে ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম আসিফ মহিউদ্দীন নামে এক ব্লগারের ওপর হামলা হয়। তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
গত ২০১৪ সাল বাদ দিয়ে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলার বাইরে টিএসসি এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়কে। একই ঘটনায় আহত হন তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা।
অভিজিৎকে হত্যার এক মাসের মধ্যে ৩০ মার্চ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বেগুনবাড়িতে খুন হন ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু।
এরপর ১২মে সিলেটের সুবিদবাজার এলাকার কর্মস্থলে যাওয়ার পথে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আরেক ব্লগার ও সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনন্ত বিজয় দাসকে।
আর ৭ আগস্ট পূর্ব গোড়ান এলাকায় বাসার ভিতর ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ব্লগার নিলাদ্রি নিলয়কে।
ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর লেখার অভিযোগে একের এক ব্লগার হত্যা করে চলেছে ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা।
সর্বশেষ, শনিবার - ৩১ অক্টোবর লেখক ও ব্লগার অভিজিতের বইয়ের প্রকাশনা সংস্থা ও দু'জন প্রকাশকের ওপর হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা ও তিনজনকে আহত করেছে তারা।