যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত ও ‘জঙ্গিদের রায়’ কার্যক্রম নস্যাৎ করার জন্যই পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে—এ মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী ও ‘জঙ্গিদের রায়’ কার্যক্রম নস্যাৎ করার জন্য এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।’
বুধবার দুপুরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত শিল্প পুলিশএর সদস্য নুর আলমকে দেখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সাভারের আশুলিয়ায় চেকপোস্টে পালাবদলের সময় হামলা হয়— জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, পুলিশ সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ পায়নি। পুলিশ সদস্যদেরকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন।
চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যদের পালাবদলের সময় এ ঘটনা ঘটেছে—এ কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পুলিশের নতুন দল গাড়ি থেকে নামার সময় হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তাদের উপর্যপুরি হামলায় শিল্প পুলিশের কনস্টেবল মুকুল মারা যান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক মাসে ব্লগার-প্রকাশকদের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে—পুলিশ সদস্যদেরও ওপর ঠিক একইভাবে হামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ব্লগার-প্রকাশকদের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে সেই একই কায়দায় আশুলিয়ায় পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। এরা (হামলাকারীরা) কখনও হরকাতুল জিহাদ, কখনও আনসারুল্লাহ। তারা আলাদা নাম ব্যবহার করলেও আসলে এক।’
‘গোয়েন্দা পুলিশ শিগগিরই দল গঠন করে অন্য জঙ্গিদের ধরার কাজ শুরু করবে— এরা মানবতার শত্রু, মানুষের শত্রু। নৃশংসভাবে এরা ছুরিকাঘাত করে পুলিশকে হত্যা করেছে। চেঞ্জিং আওয়ারে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই হামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।’
এ সময় পুলিশ প্রধানকে (আইজিপি) আরো বেশি সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা সবকটি হত্যায় জড়িতদের সনাক্ত করছি—নিরাপত্তা বাহিনী বসে নেই তারা কাজ করছে।
সকাল পৌনে ৮টার দিকে ওই ঘটনায় হামলাকারীদের ছুরিতে এক কনস্টেবল নিহত হন আহত হয়েছেন আরো চার জন।
হামলার খবর পেয়ে ঘণ্টা তিনেক পর হতাহতদের দেখতে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।