স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, এটি মূলত সম্প্রতি যে অধ্যাদেশ হয়েছে সেটি আইন আকারে পাস করার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ সংশোধনের মাধ্যমে দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও বেসরকারি রপ্তানিকারকদের (জিটুজি প্লাস) যুক্ত করে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি আবারো পেছানো হযেছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
মন্ত্রিসভায় এ সংক্রান্ত দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের খসড়া অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের পর শেষ মুহূর্তে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় বলে জানান তিনি।
শফিউল আলম বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় সমঝোতা স্মারকের খসড়া প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
এছাড়া বিমা করপোরেশন আইনের খসড়ারও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে। বৈঠকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে ইউনেসকোর দ্বিতীয় ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে ঘূরে যান। তখন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, শিগগিরই মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হবে।
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের যুক্ত করেই সে দেশে কর্মী পাঠানো হবে। ওই প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় যেতে জনপ্রতি খরচ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে সরকার। আর কর্মীদের যাবতীয় তথ্য অনলাইনের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির অন্যতম বাজার মালয়েশিয়া হলেও নানা অনিয়ম ও প্রতারণার কারণে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। এরপর ২০১২ সালের নভেম্বরে দুই দেশের মধ্যে জিটুজি পদ্ধতিতে কর্মী নেয়ার চুক্তি হলে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার লোক নিবন্ধন করেন। এরমধ্যে থেকে গত তিন বছরে প্রায় আট হাজার কর্মী দেশটিতে কর্মরত রয়েছেন।
তবে জিটুজির বাইরে ব্যক্তিগতভাবে এখন অনেকেই মালয়েশিয়া যাচ্ছেন, যেটি গত তিন বছর বন্ধ ছিল।
চলতি বছরের মে-জুন মাসে সাগরপথে মানব পাচার, গণকবর ও নির্যাতন নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী নেয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রথমে জনশক্তি পাঠানোর কাজটি বেসরকারি পর্যায়ে (বিজনেস টু বিজনেস পদ্ধতি বা বি টু বি) ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও এখন ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতি হলো জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি সরকারের হাতে থাকবে। তবে সরকার চাইলে এ কাজে বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারকদেরও যুক্ত করতে পারবে।