গতবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শিশুদের ওপর নির্যাতন হয়েছে ৬২% হারে। একই সময়ে ধর্ষণের হার বেড়েছে ২৬৯% বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম। শিশু অধিকার ফোরামের তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় আয়োকজরা বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ হলে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের হার কমে আসতো বাংলাদেশে।
দেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরতে সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে গত তিন বছরে শিশুদের ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে শিশু অধিকার ফোরাম।
এ সময় বাংলাদেশ শিশ অধিকার ফোরামের পরিচালক আব্দুস শহেদ মাহমুদ বলেন, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের তুলনায় ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শিশু নির্যাতনের হার ৬২ শতাংশ বেড়েছে।
আর ২০১৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত ২৮১ জন শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। আর এই ছয় মাসে আত্মহত্যা করেছে ১২৭ জন। আর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৩০ জন বলে জানান তিনি।
এসময় মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শিশু এ বছর ছয় মাসে নিহত হয়েছে এ দায় সরকারকে নিতে হবে।
তবে সড়ক দুর্ঘটনা আর অন্যান্য ঘটনায় শিশু নির্যাতনের হার বেড়ে যাওয়ায় সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, যারা শিশু নির্যাতন মামলার বিচার করেন তাদের ক্ষমতা আরো বাড়িয়ে দিলে শিশু নির্যাতনের মামলা গুলো দ্রুত শেষ হতো।
শিশু নির্যাতন রোধে বিভিন্ন আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই বলেও অভিযোগ করেন বক্তাতা।
তারা বলেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটতো না—শাস্তি হয় না বলেই এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে।