টিআইবিকে তিন দিন সময় বেধে দিয়ে –আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, এ সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তাকে ইচ্ছামতো কথা বলার অবাধ লাইসেন্স দেয়া হয়নি— সেটা পলিটিক্যাল পার্টিকে দেয়া আছে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।
এদিকে, এর জবাবে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্যগণ ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ প্রতিবেদনকে যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন তাকে ইতিবাচক এবং টিআইবির কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করছি।
সংসদের যে কোনো উদ্যোগে সহায়তা করতে টিআইবি প্রস্তুত আছে বলেও বিবৃতিতে জানান তিনি।
পরে বৈঠকে সংসদ, সংবিধান ও রাষ্ট্র নিয়ে ‘অবমাননাকর’ বক্তব্য দিলে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছ— জানান সুরঞ্জিত ।
‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিলে’ ওই বিধান রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকার যদি বিবেচনা করে যে, কোনো এনজিও সংসদ, রাষ্ট্র, বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অশালীন ও অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রাখা হবে— কমিটিও এটা বিবেচনা করছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে ওঠার পর পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
সোমবার সংসদ অধিবেশনে এক অনির্ধারিত আলোচনাতেও ওই বিধান নিয়ে কথা বলেন সুরঞ্জিত।
টিআইবি ‘সীমা লঙ্ঘন’ করেছে বলেও মন্তব্য করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
গতকালের আলোচনায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ প্রতিবেদনের সমালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের বক্তব্য তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানান সুরঞ্জিত।
গত ২৫ অক্টোবর সংসদকে ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’ আখ্যায়িত করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
বর্তমান সংসদ ক্ষমতাসীন দলের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের ভুবনে পরিণত হয়েছে। সংসদের বাইরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রাতিষ্ঠানিক ফোরামে পরিণত হয়েছে— বলেও মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান। ওইদিন সেমিনারে সংসদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
সোমবার সংসদে ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন সংসদ সদস্যরা। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ সংসদের বিশেষ অধিকার কমিটিতে টিআইবিকে তলব করারও দাবি জানায়।
পরে সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সুরঞ্জিত বলেন, এনজিওগুলো এমন অবস্থা ধরছে যে- আমার ঘরের ছাও, আমারে খাইতে চাও। তারা সরকার ও রাষ্ট্রের প্যারালাল হয়ে উঠছে এ অধিকার তাদের নেই। তাদের কাজ সেবামূলক কাজ করা। নির্বাচন নিয়ে কথা থাকতেই পারে সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলো কথা বলবে এরমধ্যে এনজিও কেন? ড. ইফতেখার কিছু কথা বলেছেন যা অগ্রণযোগ্য ও অবমাননাকর।
আওয়ামী লীগের এ প্রবীণ নেতা বলেন, সংসদকে পাপেট শো বলেছে— তুমি কে হে? তুমি এনজিও। বাইরের টাকা আনো। যে কথা বলেছে তা ফিলদি (নোংরা)।
টিআইবির বিষয়ে ‘দায়িত্ব নিতে হবে’ এ মন্তব্য করে সুরঞ্জিত বলেন, আমাদের অবস্থান এনজিও’র বিরুদ্ধে নয়। অন্য এনজিওদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের বলতে হবে ইফতেখার তাদের মুখপাত্র কি-না। যদি তারা ‘হ্যাঁ’ বলে, তা হলে একরকম, না হলে অন্যরকম।
টিআইবিকে তিন দিন সময় বেধে দেয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে— না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাকে ইচ্ছামতো কথা বলার অবাধ লাইসেন্স দেয়া হয়নি। সেটা পলিটিক্যাল পার্টিকে দেয়া আছে।
সুরঞ্জিত বলেন, সামাজিক, আইনি, সাংবিধানিক সকল সীমা লঙ্ঘন করেছে টিআইবি—উনি (ইফতেখারুজ্জামান) কে?
কেউ যদি মনে করে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে প্রতিষ্ঠানকে হেয় করবে। সেটা বিদ্বেষমূলক ও দূরভীসন্ধিমূলক। সংসদ তাদের লক্ষ্যবস্তু কেন? তারা অসাংবিধানিক কিছু চায়?— জানান তিনি।