জাতীয়

জলবায়ুর পরির্বতন: ১০কোটি চরম দরিদ্রে ৫০ কোটি মানুষ গৃহহীন

জলবায়ুর ক্ষতি
জলবায়ুর ক্ষতি
কার্বন নিঃসরণ লাগামহীনভাবে চলতে থাকলে সমুদ্রপৃষ্ঠের ঊচ্চতা বেড়ে ১০ কোটির বেশি মানুষ চরম দরিদ্র ও ৫০ কোটির বেশি মানুষ গৃহহীন হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জাতিসংঘের ২১তম বৈশ্বিক সম্মেলন (কপ ২১) সামনে রেখে প্রতিবেদন দুটি প্রকাশ করা হয়েছে। জলবায়ুজনিত ঘটনাবলী এরইমধ্যে দারিদ্র্য নিরসন প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর ফ্রান্সের লে বুর্গে এ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। রোববার প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন দরিদ্রদের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা সংক্রান্ত যে কোনো নীতিতে দারিদ্র্য নিরসনের পদক্ষেপ থাকতে হবে। এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে আগামী ১৫ বছরে ১০ কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়বে। দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারা আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শস্যের ক্ষতি, খাদ্যপণ্যের দামসহ কৃষিতে অন্যান্য নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যেগুলো অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানিবাহিত রোগ ও ম্যালেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা জানিয়ে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে অতিরিক্ত ১৫ কোটি মানুষ ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরিতে নেতৃত্ব দেয়া বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ স্টেফানে হেলেগেট বলেন, প্রতিবেদনে এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যে, দারিদ্র্য নিরসন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা আলাদাভাবে করা যাবে না-যদি একসঙ্গে দুটি বিষয়ের প্রতি নজর দেয়া হয় তাহলেই এগুলো অর্জন করা সহজ হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও এর নানা প্রভাব নিয়ে কর্মরত ক্লাইমেট সেন্ট্রালও রোববার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কার্বন নিঃসরণের কারণে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে এই পরিমাণ ভূমি প্লাবিত হতে পারে, যেখানে বর্তমানে ৭৬ কোটি মানুষের বসবাস রয়েছে। বড় মাত্রায় কার্বন নিঃসরণের রাশ টেনে ধরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলিসিয়াসের মধ্যে রাখা গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ১৩ কোটিতে নেমে আসতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ১০টি শহরের সবগুলোই এশিয়ায়। এগুলোর মধ্যে ঢাকা ছাড়াও কলকাতা, মুম্বাই, হং কং, সাংহাই, জাকার্তা ও হ্যানয় রয়েছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী চীনের ঊপকূল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বলে ক্লাইমেট সেন্ট্রাল মনে করছে। ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে চীনের সাড়ে ১৪ কোটি এবং ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ছয় কোটি ৪০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে বিশ্বের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে প্লাবিত এলাকা অর্ধেকে থাকবে। এশিয়ার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকার কথা জানিয়ে এতে বলা হয়, বর্তমানে দেশটির প্রায় আড়াই কোটি মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছেন।
দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ