বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন হলে তা দিয়েই বাংলাদেশের স্থল ও জলসীমায় নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হবে—জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
বুধবার সকালে রাজধানীতে -ফ্রান্সের মহাকাশ সংস্থা থ্যালেস এলেনিয়া স্পেসের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা-বিটিআরসি।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তারানা বলেন, এতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হবে।
চুক্তি অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর থ্যালেস এলেনিয়া দক্ষিণ আমেরিকার ফ্রেন্স গায়না স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করে এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে দিয়ে দিবে। মহাকাশে বাংলাদেশের পদচারণায় প্রধম সোপান হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।
এর জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র ২ বছর আগামী ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে ফ্রান্সের মহাকাশ সংস্থা থ্যালেস এলেনিয়ার সঙ্গে বুধবার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ।
চুক্তি অনুযায়ী স্যাটেলাইট তৈরি থেকে শুরু করে সমস্ত কাজও করবে থ্যালেজ এলেনিয়া। এরজন্য তাদেরকে দিতে হবে ১ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা। সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ আমেরিকা থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। কক্ষপথে স্থাপনের পর বাংলাদেশের গাজীপুর এবং রাঙ্গামাটিতে স্থাপিত দুটি স্টেশনের সঙ্গে স্যাটেলাইটের সংযোগ করে দেয়া হবে।
স্যাটেলাইট স্থাপন সম্পাদন হলে টেলিযোগ ও টেলিভিশন সম্প্রচারের জন্য বাংলাদেশকে আর অন্যদেশের কাছ থেকে স্যাটেলাইট ক্রয় করতে হবে না। উল্টো সুযোগ হবে এগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। এরইমধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় রাশিয়ান একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পুর্ব দ্রাঘিমাংস অরবিটাল স্লট লিজ ইনের ভিত্তিতে ক্রয় করা হয়েছে।