মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামাত নেতা আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারেন রাষ্ট্রপতির কাছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করার পর তার ছোট ছেলে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, রাষ্ট্রের একজন অভিভাবক- রাষ্ট্রপতির কাছে তার আইনজীবীর মাধ্যমে সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন।
তার ছেলে বলেন, মুজাহিদ- বাবার সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট আমাদের কথা হয়েছে তিনি ভালো আছেন। বৃহস্পতিবার দিকে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন তারা।
জামাতের এই সেক্রেটারি জেনারেলের পরিবারের ১২ সদস্য বৃহস্পতিবার বেলা ২টার আগে আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছান। প্রায় ঘণ্টাখানেক ভেতরে অবস্থান করার পর বেলা দেড়টার দিকে বেরিয়ে আসেন তারা।
স্ত্রী তামান্না ই জাহান, ছেলে আলী আহমেদ তাহজিব, আলী আহমেদ তাহকীক ও আলী আহমেদ মাবরুর, মেয়ে তামান্না বিনতে মুজাহিদ, ভাই মোহাম্মদ খালেদ ছাড়াও পূত্রবধূ সৈয়দা রুবাইয়াজা, নাসরিন আকতার ও ফারজানা জেরিন, আত্মীয় নুরুল হুদা মাহমুদ, আ ন ম ফজলুল হাবিব সাব্বির ও ওযায়ের এম এ আকরাম এসেছিলেন মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করতে।
মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না জানতে চাইলে মাবরুর বলেন, বাবা নিজেই সে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এর আগে দেখা করার অনুমতি চেয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন তার পরিবারের সদস্যরা। আবেদনের সঙ্গে পরিবারের ১২ সদস্যের একটি তালিকা দেয়া হয়।
এর আগে বুধবার সাকার পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। চূড়ান্ত এ রায়ে এ যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ৪ সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে।
এটি সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার চূড়ান্ত আদেশ।
মুজাহিদের ফাঁসির রায় বহাল থাকায় সবশেষে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর দণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আসবে।
মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে শুনানি হয়।
এ বেঞ্চের বিচারপতিরা হলেন: বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
মুজাহিদের রিভিউ শুনানি শেষে একই আপিল বেঞ্চে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর রিভিউ আবেদনেরও শুনানি শুরুর কথা রয়েছে। মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় আবেদনটি ৩ নম্বরে রয়েছে।
ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হলে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে এ দুই যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি ক্ষমা না করলে, যেকোনো দিন তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে সরকার।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এবছর ১৬ জুন আপিল বিভাগ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।
পরে এ বছরের ২৯ জুলাই তারও মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করে আপিল বিভাগ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ এই দুই যুদ্ধাপরাধীর মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করার পর তারা ১৪ অক্টোবর রায় পূনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় মুজাহিদকে। এরপর ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একাত্তরের সুরকার আলতাফ মাহমুদ, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ছেলে রুমি ও বদী আজাদসহ কয়েকজনকে হত্যায় নির্দেশসহ ৬ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি অভিযোগ সুনির্দিষ্ট করা হয় মুজাহিদের বিরুদ্ধে।