মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামাত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের পরিবারের দাবি অযৌক্তিক— মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এমন কথা বলা হচ্ছে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
মুজাহিদের পরিবারের সদস্যদের দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাহবুবে আলম বলেন, কোনো ব্যক্তির একটি মামলায় ফাঁসির আদেশ হলে বা কার্যকর হলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্য মামলাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আদালত মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনানি করেন না। তাই মামলা থাকলে ফাঁসি কার্যকর করা যাবে না এমন দাবি অযৌক্তিক। এগুলো বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য করা হচ্ছে।
মুজাহিদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় নিজের অবস্থান জানতে চান মুজাহিদ। এ মামলা তিনি লড়তে চান। তাই এ মামলার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি কার্যকর না করতে পরিবারের সদস্য আহ্বান জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদের স্ত্রী লিখিত বক্তব্য বলেন:
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে সাংবিধানিক অভিভাবক মনে করেন আমার স্বামী — তার কাছেই সুবিচারই পাওয়া যাবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি বলে জানিয়েছেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের স্ত্রী তামান্না-ই জাহান।
শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় মুজাহিদের স্ত্রী বলেন, আইনজীবীরা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়াও হয়েছে।
এ সময় মুজাহিদের স্ত্রী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় যদি অন্য কোনো মামলায় মুজাহিদের দণ্ড কার্যকর হয় তাহলে তা নাগরিক অধিকারের লঙ্ঘন হবে বলে যুক্তি দেখান।
তিনি বলেন, যেহেতু রাষ্ট্রপতি ব্যক্তিগত জীবনে একজন আইনজীবী ও আইনবিদ তাই আশা করি রাষ্ট্রপতি নাগরিক হিসেবে মুজাহিদের আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।
২১শে আগস্ট ও গ্রেনেড হামলা মামলার মুজাহিদ অন্যতম আসামি। ওই মামলার এখন চূড়ান্ত সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
এ কারণেই মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে জানতে চাইবেন যে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তার অবস্থান কী হবে, বলেন তামান্না-ই জাহান।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুজাহিদের স্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার তৃতীয় পুত্র আলী আহমেদ মাবরুর, ছোট ছেলে আলী আহমেদ তাহকিক, মুজাহিদের বড় ভাই আলী আফজাল খালেদ, তার ছোট ভাই আলী আজগর আসলাম, তাদের আইনজীবী সাইফুর রহমান ও এস এম কামালউদ্দিন।