জাতীয়

নিজেরাই নিজেদের পতন দেখে গেলেন

সাকা-মুজাহিদ
সাকা-মুজাহিদ

দম্ভোক্তির জন্য কুখ্যাত দুই যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ তাদের পতন নিজেরাই দেখে গেলেন।

যুদ্ধাপরাধে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েও নিজের বাঁকা স্বভাব থেকে টলেননি সাকা চৌধুরী। ট্রাইব্যুনালে রায়ের দিনও বিচারকের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ, প্রসিকিউটরদের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন এ কুখ্যাত রাজাকার।

আর বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতা বিরোধী নেই, ছিল না- এমন দম্ভোক্তি করতেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। অবশেষে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েই ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হলো তাদের।

বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর প্রথম দিকে ২০১১ সালে ট্রাইব্যুনালের বিচারককে হুমকি দিয়ে সাকা বলেছিলেন, ‘চোখ রাঙাবেন না।’ আবার ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানকে আইন শেখাতে আসবেন না বলে ধমক দেন বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য। আর অ্যাটর্নি জেনারেলকে এজলাস কক্ষে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, জেল থেকে বের হয়ে তিনি দেখে নিবেন। সেইসঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ।

২০১৩ সালের ১৭ জুন নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার আগে আইন অনুযায়ী শপথ নিতে অস্বীকার করেন সাকা। এমনকি, বাংলায় সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে, ৯ দিনের সাফাই সাক্ষের পুরোটাই ইংরেজিতে দেন তিনি। নিজের জাতিসত্ত্বা বাঙালি নয় উল্লেখ করে তার মাতৃভাষা চাটগাঁইয়া বলে দাবি করেন। সাক্ষ্যে নিজেকে পছন্দসূত্রে বাংলাদেশি বলে দাবি করেন কুক্ষাত এ রাজাকার।

কটুক্তি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে, সেনাবাহিনীকে নিয়েও বাজে মন্তব্য করেন সাকা চৌধুরী।

রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার দল বদলান তিনি। মুসলিম লীগ থেকে সামরিক শাসক এরশাদের সময় জাতীয় পার্টি, পরে সেখান থেকে বহিষ্কার হয়ে এনডিপি গঠন করেন। সবশেষ বিএনপিতে যোগ দেন বহুরূপী সাকা চৌধুরী।

আর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগকে অস্বীকার করে নানা সময়ে দম্ভোক্তি করেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই বদর কমান্ডার বলেছিলেন, বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই, ছিলনা।

অথচ এর আট বছর পর মুজাহিদ যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে প্রমাণিত হলেন, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হলো তাকে।

মুজাহিদ আলবদর বাহিনীর পূর্ব পাকিস্তান শাখার প্রধান ছিলেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবরে তিনি ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি হন। বাবার পথ ধরেই তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর-আলশামস বাহিনী গঠিত হয় এই ছাত্র সংঘের নেতাকর্মীদের নিয়েই।

মুক্তিযুদ্ধের পর জামাতের রাজনীতিতে সক্রিয় হন মুজাহিদ। ২০০০ সালে তিনি দলের সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হন। দলের নীতিনির্ধারণে তার ভূমিকাই থাকতো বেশি।

২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকার এই যুদ্ধাপরাধীকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বানিয়ে পুরষ্কৃত করে।

দেশটিভি/টিআরটি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ