জাতীয়

বাংলাদেশে এ এক নতুন ইতিহাস

ফাঁসি
ফাঁসি

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এই প্রথমবারের মতো সাবেক দুই মন্ত্রীর ফাঁসি কার্যকরের ঘটনায় রচিত হলো নতুন এক ইতিহাস। রোববার রাত ১২ টা ৫৫ মিনিটে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। রাতেই তাদের মরদেহ দাফনের জন্য পুলিশ পাহারায় নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।

যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরী ও আলবদর কমান্ডার মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে যায় শনিবার সকাল থেকেই। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়টি ১৮ নভেম্বর রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়া পর থেকেই ঝুলিয়ে রাখে এ দুই যুদ্ধাপরাধী। শনিবার সকালে এ বিষয়ে জানতে ঢাকা জেলা প্রশাসনের দুই ম্যাজিস্ট্রেট আসেন কারাগারে। বেলা দুইটায় কারা কতৃপক্ষ জানায় সাকা ও মুজাহিদ রাষ্ট্রপতি কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন।

বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার একটি রেজিস্ট্রার খাতা নিয়ে বের হন যাতে লেখা ছিলো ‘গুরুত্বপূর্ণ পত্রাদি’। ২টা ৫৪ মিনিটে খাতাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়। এরপরপরই গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই কারাগার থেকে বেরিয়ে যান দুই ম্যাজিস্ট্রেট। বিকাল থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রাণ ভিক্ষার আবেদন দুটি তিনি পেয়েছেন এবং মতামত দিয়েছেন। রাত আটটায় আবেদনটি বঙ্গভবনে পৌঁছায়। এরপর সাড়ে আটটায় কারা কর্তৃপক্ষ মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের ডেকে পাঠান। রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেন।

রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ও রোববার দিবাগত রাত ১২টা ২১ মিনিটে মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরা কারাগার থেকে বেরিয়ে যান। এর মধ্যেই কারাগারে প্রবেশ করে চারটি অ্যাম্বুলেন্স।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কনডেমড সেলে থাকা মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীকে তওবা পড়ান কারা মসজিদের ইমাম। জ্বলে উঠে ফাঁসির মঞ্চের ফ্লাড লাইট। উপস্থিত হন ঢাকা জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, পুলিশের প্রতিনিধিসহ ঊর্ধতন কারা কর্মকর্তারা। ফাঁসির মঞ্চে আনা হয় দুই যুদ্ধাপরাধীকে। ১২টা ৫৫ মিনিটে একই সঙ্গে কার্যকর হয় ফাঁসির দণ্ড।

এরপর সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে মূল কারাফটক দিয়ে বের হয়ে আসে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে যুদ্ধাপরাধীর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে যায়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আর হত্যা-নির্যাতন-বর্বরতার বহু অপরাধে সাকা চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ হয় ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর। আপিলের চূড়ান্ত রায়েও বহাল থাকে সেই দণ্ড। সবশেষ তাদের রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে বহাল থাকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ।

দেশটিভি/টিআরটি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ