পাকিস্তান তার কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে— যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে কোনো দেশেরই আপত্তিকর মন্তব্য বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান শাহরিয়ার আলম।
সোমবার রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পাকিস্তানের হাই-কমিশনারের হাতে প্রতিবাদপত্র তুলে দেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মিজানুর রহমান।
পরে সংবাদ সম্মেলনে করে সাংবাদিকদের বলেন, দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে আলোচনায়ে হয়েছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে তাও সত্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদেরন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোয় পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডেকে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই এ দেশে যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হচ্ছে—এ ব্যাপারে কোনো দেশের নেতিবাচক মন্তব্য বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না বলেও এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি করে দেন।
যুদ্ধাপরাদীদের বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে নেতিবাচক মনোভাব ছিল বর্তমানে তাও বদলে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আশা করেন, এবার অন্তত পাকিস্তানের বোধোদয় হবে।
দুই যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর নিয়ে পাকিস্তান যে বিবৃতি দিয়েছে কড়া ভাষায় তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করা নিয়ে পাকিস্তানের আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনারকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুপুর আড়াইটার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আসেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলম। সেখানেই তার হাতে প্রতিবাদপত্র তুলে দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মিজানুর রহমান। পরে সোয়া ৩ টার দিকে প্রতিবাদ লিপি নিয়ে বেরিয়ে যান সুজা আলম।
উল্লেখ্য সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিবৃতি দেয় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, 'গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি যে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দলের নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে এ ঘটনায় পাকিস্তান বিরক্ত বোধ করছে।' বিবৃতিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকেও ক্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করা হয়।
এর পাশাপাশি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেসার আলী যুদ্ধাপরাদীদের বিচারের সমালোচনা করে বলেন, 'পাকিস্তানের ঐক্যে বিশ্বাসী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে নেয়া প্রতিশোধ বন্ধ করার এখনই উপযুক্ত সময়।' অবশ্য যুদ্ধাপরাদীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় থেকেই পাকিস্তান এর বিরোধীতা করে আসছে।
যুদ্বাপরাধী যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে কোনো দেশেরই নেতিবাচক মন্তব্য বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না আবারো জানান মন্ত্রী।
এর আগে, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধী জামাত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও উদ্বেগ জানিয়েছিল পাকিস্তান। ‘পাকিস্তানের প্রতি অনুগত এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে সমর্থন করায়’ কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে দাবি করে সে সময় দেশটির পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাবও গৃহীত হয়।
তা নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন মহলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব করে ওই প্রস্তাব গ্রহণের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।
রোববার প্রথম প্রহরে সালাউদ্দিন কাদের ও মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝোলানোর পর এক বিবৃতিতে উদ্বেগের কথা জানায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর কয়েকজনের সাজার পর এই দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ইসলামাবাদের নাখোশ হওয়ার কথাও বলা হয়েছে বিবৃতিতে