একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়-ওএইচসিএইচআর এর সমালোচনা অগ্রাহ্য করেছে বাংলাদেশ।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ওএইচসিএইচআর এর উদ্বেগকেও নাকচ করা হয়েছে। ওএইচসিএইচআর এর সংবাদ ব্রিফিংয়ের পরিপ্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে এই জবাব দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এর জবাব দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ও তাদের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ওএইচসিএইচআর এর সমস্ত মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে সেখানে।
সেখানে বলা হয়েছে সমস্ত যুক্তিপ্রমাণ সাপেক্ষেই সালাউদ্দিন কাদের ও আলি আহসান মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া ও তা কার্যকর করা হয়; এর পেছনে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কাজ করেনি। কারণ অপরাধীদের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিক দলের সদস্যরাও রয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতা মধ্য দিয়ে। এ প্রক্রিয়ায় আসামিপক্ষকে সমান আইনি সুযোগ দেয়া হয়েছে।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেখানে বাংলাদেশের প্রশংসা করছে, সেখানে ওএইচসিএইচআর ওইসব অপরাধীদের পক্ষ নিচ্ছে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার সম্পন্নের প্রতিশ্রুতিতেই জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এবং এই প্রতিশ্রুতি সরকার পূরণ করবেই।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পক্ষ নিয়ে ওএইচসিএইচআর একাত্তরের ভুক্তভোগীদের অপমাণ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
গত রোববার রাতে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের ও আলি আহসান মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের পর মঙ্গলবার ওএইচসিএইচআর তাদের ওয়েবসাইটে এক সংবাদ ব্রিফিং তুলে ধরে।
মৃতুদণ্ডকে অমানবিক আখ্যা দিয়ে এর মৃত্যুদণ্ড বন্ধে অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আবারও আহবান জানানো হয় সেখানে। সেখানে আরো বলা হয় মৃত্যুদণ্ড বন্ধে ওএইচসিএইচআর বরাবরই আহ্বান জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক মান নিয়েও ওএইচসিএইচআর বরাবরই সন্দেহ করে আসছে।