যানবাহন রাখার সুবিধার্থে ভালোমানের টার্মিনাল নির্মাণের আশ্বাসের দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।
রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বের হয়ে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতায় মেয়র এ কথা বলেন। তার বক্তব্যের পরই মূলত তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।
ওইসময় সড়কে গাড়ি না রেখে ভেতরে নির্ধারিত স্থানে গাড়ি রাখার জন্য তিনি শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান মেয়র।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের কার্যালয়ে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর এ সব কথা বলেন ট্রাক শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে।
এর আগে মেয়র বলেন, যে কোনো মূল্যে রাস্তার উপর অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড স্থাপনা সরানো হবে—এটা জনগণের অধিকার।
তেজগাঁওয়ে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ অভিযানে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।
সরকারি জমি দখলের অধিকার কারো নেই— জনগণের জন্য এ অভিযান, শ্লোগানে ভয় না পেয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন মেয়র।
‘সাধারণ মানুষ চায় রাস্তাঘাট পরিস্কার হোক, সমস্ত মানুষ চায় রাস্তা যানজটমুক্ত হোক। ট্রাফিকজট মুক্ত হোক রাস্তা। কোনো গর্ভবর্তী মাকে যেন আর রাস্তায় নেমে হাসপাতালের যাওয়ার জন্য কষ্ট করতে না হয় এজন্য অভিযান চলবে বলে জানান মেয়র।’
‘এ অভিযান নিয়ে কোনো সমঝোতা হবে না, অভিযান চলবে কারণ আমাদের একটাই উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে চলতে পারেন।’
তিনি আরো বলেন, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। বাইরে চার-পাঁচজন লোক হই হই করলে তাদের কথা মানতে হবে এর কোনো কারণ নেই। শহরের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে সেই কাজ করছি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কেউ উত্তেজিত করলেন আর আমি আমার লোক নিয়ে দৌঁড়ে চলে গেলাম; না এটা হবে না। সমস্যার কিছুই হয়নি। কেউ একজন ইটাইটি করেছে।… যেটা হচ্ছে এটা অনভিপ্রেত।”
আনিসুল হক বলেন, ওই এলাকার ট্রাক মালিক, কাউন্সিলরসহ সবাই তার সঙ্গে আছেন। নির্দেশনা মেনে অনেকেই ট্রাক সরিয়ে নিয়েছেন। যারা সরায়নি তাদের বিরুদ্ধেই এ অভিযান।
আইন আইনের মতো চলবে ভাই। আপনি কী এমন হয়ে গেলেন যে সবাই সরিয়ে নেয়ার পরও আপনি আপনার ভাঙা ট্রাক সরাবেন না –এ প্রশ্ন রাখেন মেয়র।
অভিযান স্থগিত করে আরো ১০ দিনের সময় বেধে দিলেও, বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে আবারো অভিযান চালানো হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন মেয়র।
এ অভিযান ঘিরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়ন অফিসের ভেতরে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন। ওই সময় থেমে থেমে চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। উত্তপ্ত হয়ে উঠে তেজগাঁও, ট্রাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন।
ওই সময় নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, গুটি কয়েক মানুষ নিজেদের স্বার্থে এ কাজে বাধা দিচ্ছে, তবে বৃহত্তর স্বার্থে সবার এ কাজে এগিয়ে আসা উচিত। মেয়ের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিৎ।
জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন উচ্ছেদকারীদের ওপর ইট পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেয়রকে নিরাপত্তা দিতে ও আত্মরক্ষার্থে রাবার বুলেট ছুড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাবার বুলেটে এক ট্রাক চালক আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুরে সিটি করপোরেশনের লোকজন ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদের অভিযান শুরু করেন। এ সময় সেখানে ছিলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ও ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক। উচ্ছেদ অভিযান শুরুর কিছুক্ষণ পরই চালক ও স্থানীয় লোকজন উচ্ছেদকারীদের ওপর ইট পাটকেল ছুঁড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ও মন্ত্রী-মেয়রকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি চালায়। এতে এক ট্রাকচালক আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আহত ট্রাক চালকের নাম জসিমউদ্দিন। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ভাঙচুরের শিকার হয়েছে চ্যানেল আইয়ের গাড়ি। ওই গাড়ির চালক আজহার আহত হন। এ ছাড়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের ফটোসাংবাদিক তানভীর আহমেদের মাথায় ইটের আঘাত লেগেছে। তার ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে।
বর্তমানে গেটের বাইরে স্থানীয় লোকজন মিলে বিক্ষোভ করছেন। ফলে মেয়র অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। বাইরে মেয়রের প্রটোকলের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রাখা হয় ।
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শ্রমিকনেতা ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা আসেননি।
এরআগে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড দখলমুক্ত করতে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ওই সময়ের মধ্যে কেউ ট্রাক না সরানোয়, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিকদের নতুন করে ২৭ নভেম্বর সময় বেধে দেয়া হয়েছিল।