শুধু আশ্বাস না দিয়ে শর্ত বাস্তবায়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরির দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও বর্তমান আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।
এদিকে, রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ে সরকারের মনোভাবও ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। দেশ টিভিকে এ সব কথা বলেন তারা।
জনসংহতি সমিতির হিসেবে, পাহাড়িদের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অধিকার, ভূমি ও অর্থনৈতিক অধিকার, অপারেশন উত্তরণসহ অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহারের মতো মৌলিক বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বাস্তবতায় দিনটিকে শান্তিচুক্তির বাস্তয়নের জোর দাবি জনসংহতি সমিতির। এবার শুধু আশ্বাসের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না তারা। চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির দাবি তাদের।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত না হলে আবারও সেখানে অশান্তি নেমে আসতে পারে এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছে জনসংহতি সমিতি।
চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী।
আগামী সংসদ অধিবেসনেই ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইন প্রণয়নসহ অমিমাংসীত বিষয়গুলো দ্রত সমাধান করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি দিবস আজ। ১৯৯৭ সালের এদিনে সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এ চুক্তির ফলেই পাহাড়িরা সশস্ত্র সংঘাত থেকে ফিরেছিল শান্তির পথে। তবে দীর্ঘ ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে দাবি জনসংহতি সমিতির।
বিগত ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের তৎকালীন চিফ হুইফ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিতে সই করেন।
এ চুক্তির ফলে দীর্ঘ দিনের সংঘাত ছেড়ে পাহাড়ি জনপদের মানুষ ফিরে আসে শান্তির পথে।
তারপর পার হয়েছে ১৮ বছর। সরকারের দাবি এসময়ে চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু জনসংহতি সমিতির মতে বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ২৫টি।
বাস্তবায়িত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে... পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, ভারত থেকে প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন, চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি, ভুমি কমিশন টাস্ক ফোর্স গঠন এবং ৫ শতাধিক ক্যাম্পের মধ্যে ৬৬টি প্রত্যাহার।