দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্ক প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর হলেও উদ্দেশ্য-লক্ষ্যের বিবেচনায় এর অর্জন খুবই সামান্য বলে জানিয়েছেন বিআইআইএসএস'র চেয়ারম্যান মুন্সি ফয়েজ আহমদ।
মঙ্গলবার রাজধানীতে সার্কের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
দারিদ্র্য নির্মূল, অপুষ্টি রোধ, সন্ত্রাসবাদ দমন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা,সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও কানেক্টিভিটি তৈরিই মূলত এ অঞ্চলের প্রধান চ্যালেঞ্জ—উল্লেখ করে মুন্সি ফয়েজ বলেন, সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক আস্থা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব নয়।
তবে খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি, দারিদ্র্য বিমোচনে পারস্পরিক সহযোগিতায় বিভিন্ন কমিশন গঠন ও বাস্তবায়নের মাত্রার বৃদ্ধি সার্কের ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন তিনি।
মুন্সি ফয়েজ বলেন, ‘বারবার বলা হচ্ছে, সার্কের সদস্যদের মধ্যে ছাড় দেয়ার মনোভাব পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। আজকেও আমরা বলতে চাই, এই বিষয়টিই আমাদের লক্ষ্য অর্জনে প্রধান অন্তরায়। শর্তহীন সহযোগিতাকে ভিত্তি করে সদস্যদের এগিয়ে আসতে হবে।’
এ সময় প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘সার্কের লক্ষ্য পূরণে আমরা বদ্ধ পরিকর এবং সে চেষ্টা অব্যাহত আছে। সদস্য দেশগুলোর প্রতি আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে পূঁজি করেই সার্কের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পূরণ সম্ভব। নতুবা পারস্পরিক অবিশ্বাস ও ক্ষমতার দম্ভ জিইয়ে থাকলে সার্ক ব্যর্থই রয়ে যাবে।’
দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের পারস্পরিক উন্নয়নের জন্য ১৯৮৫ সালের ৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় সার্ক। তবে উদ্দেশ্য-লক্ষ্য পূরণে গত ৩০ বছরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বেশিরভাগই আলোর মুখ দেখেনি। মূলত সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক অনাস্থা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবই এর প্রধান কারণ।