ইসমাইল হোসেন ওরফে নিরব পানিতে পড়ার আধা ঘণ্টা বা ৩০ মিনিটের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিরবের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়েছে।
ময়নাতদন্ত শেষে ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী আবু সামা সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি আরো বলেন, পানিতে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে— শরীরে গভীর কোনো ক্ষতের চিহ্ন নেই। শুধু রোলিংয়ের (গড়ানো) কারণে পেট, কপালে ও মুখে কিছু জখম রয়েছে।
এ চিকিৎসক জানান, নীরবের পাকস্থলিতে যে খাবার পাওয়া গেছে, তা পরীক্ষা করে মনে হয়েছে মৃত্যুর ঘণ্টাখানেক আগে খেয়েছিল শিশুটি। এছাড়া পেটে নর্দমার কিছু পানিও পাওয়া গেছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দুপুরে খাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে মারা গেছে এটা আমরা বলতে পারি। ম্যানহোলের ভেতরে কোনো খালি জায়গা ছিল কি না, সেখানে তার ভেসে থাকার সুযোগ ছিল কি না- তা তো নিশ্চিত করে বলা যায় না।
নীরবের বাবা রেজাউল করিম বলেন, মাদারিপুরের কালকিনী উপজেলার বনগ্রামে তাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন হবে তার ছেলের।
কদমতলীর শ্যামপুর পালপাড়ায় মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় নীরব ড্রেনে পড়ে যায় বলে পুলিশ ও স্বজনরা জানান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও আশপাশের নালায় নেমে তল্লাশি শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর বুড়িগঙ্গার তীরে আরেক নালার তারের জালে আটকে থাকা অবস্থায় অচেতন নীরবকে খুঁজে পান এক উদ্ধারকর্মী।
এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাত ৯টার দিকে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরবের জন্ম মাদারিপুরে। জন্মের পরই রাজধানীর শ্যামপুরের পালপাড়ায় বরইতলায় চলে আসে নিরবের পরিবার। এখানে নিরবের বেড়ে ওঠা। খেলার সঙ্গী-স্থানীয় শিশুরা। বাসার আশপাশেই খেলা করত সে। দূরে কোথাও যেত না। গতকাল মঙ্গলবার পৌনে চারটার দিকে নিবর বাসা থেকে বের হয়। বের হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই পরিবারের লোকজন নিরবের নালায় পড়ে যাওয়ার খবর পায়।
শ্যামপুরের পালপাড়ায় বরইতলায় সবুজ নামের একজন কাছ থেকে টিনশেডের একটি ঘর এক বছর আগে ভাড়া নেয় নিরবের বাবা রেজাউল ইসলাম ও মা নাজমা বেগম। তাদের বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে ওই নালা।
ইসমাইল হোসেন নিরবের চাচা সোহরাব আলী বলেন, এ ঘটনায় কোনো মামলা করা হবে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেই সরাসরি নিরবের মরদেহ মাদারীপুরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে।