শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যখন মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, তখন পাকিস্তানি হায়নার দল রাজাকার-আলবদরদের সঙ্গে নিয়ে চালায় বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ। বেছে বেছে হত্যা করে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের। প্রতি বছরই এই দিনে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে জাতি স্মরণ করছে তাঁর মেধা-মননের কাণ্ডারী সেইসব শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।
শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশেই হত্যার শিকার হয়েছেন মেধাবী পেশাজীবীরা। রক্ষা পাননি খ্যাতিমান কবি-লেখক-সাহিত্যিক, শিক্ষক-সাংবাদিক-গবেষক, সমাজকর্মী কেউই। মুনীর চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজউদ্দীন হোসেন, আনোয়ার পাশা, ডা. ফজলে রাব্বি, ডা. আলীম চৌধুরী, আলতাফ মাহমুদ, সেলিনা পারভীনসহ যে মানুষগুলো স্বাধীন দেশের শিক্ষা-মনন-সংস্কৃতির কাঠামো গড়ে দিতে পারতেন, বেছে বেছে হত্যা করা হয় সবাইকে।
হত্যা-ধ্বংস-গণহত্যা চালিয়েই পাকিস্তানিরা মনে করেছিল সবকিছু স্তব্ধ করা যাবে। কিন্তু যখন নিশ্চিত হয়ে উঠলো পরাজয়, হানাদাররা শুরু করলো মারণযজ্ঞের বর্বরতা।
উদ্দেশ্য, জন্ম লগ্নেই বাংলাদেশ যাতে থমকে দাঁড়ায়, কখনোই যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে এ মাটির মানুষ। এদেশীয় দোসরদের সঙ্গে নিয়ে বেছে বেছে জাতির মেধা-মননের কাণ্ডারীদের হত্যা করে হানাদাররা। পাকিস্তানি জেনারেল রাও ফরমান আলী ছক কাটেন কিলিং মিশনের, অপারেশন চালায় রাজাকার-আলবদররা।
বুদ্ধিজীবী হত্যার এমন বর্বরতার নজির পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দুস্কর। এক-একজনকে নিরস্ত্র অবস্থায় চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়ে, বেয়নেটে খুঁচিয়ে, চোখ তুলে নিয়ে, জবাই করে বা পেট কেটে হত্যা করে. বর্বরতার কোনো অবশেষই রাখেনি খুনিরা।