জলবায়ু সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্যারিস সম্মেলনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনতে উন্নত দেশগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলো। এর ফলে বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণের পথ তৈরি হল।
তিনি বলেন, প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি যেন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখা যায় সে বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা সম্ভব হবে।
এদিকে, চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সাল থেকে কার্বন নিঃসরণের লাগাম টানবে দেশগুলো আর উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার জন্য ধনী দেশগুলোকে ২০২০ সালের পর থেকে প্রতি বছর ১০ হাজার কোটি ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এতে।
সরকার মনে করছে, এ চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা সম্ভব হবে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানো, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে অনুদানসহ যেসব প্রস্তাব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়, সেগুলোও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার নিজ নিজ অবস্থান থেকে গড়ে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ধনী দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। চীনের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মাধ্যমে পরিবেশের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হচ্ছে।
অন্যদিকে পশ্চিমাদের যুক্তি চীন ও ভারতের মতো দ্রুত উদীয়মান দেশগুলো পরিবেশের ক্ষতি করছে বেশী। উন্নত দেশগুলোর এ তর্কে গত ২০টি কপেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর কোনও দাবিই বাস্তবায়ন হয়নি।
এবাবের সম্মেলনে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জোড়ালো দাবির মুখে একটি আইনি বাধ্যবাধকতামূলক চুক্তি স্বাক্ষর হয়।