রাত পোহালেই ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের ৪৪তম বার্ষিকী। একাত্তরের এ দিনে শত্রুমুক্ত হয়েছিল স্বদেশ, আত্মসমর্পণ করে হানাদার পাকিস্তানিরা।
জাতির গৌরবময় এ দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা আয়োজনে পালনের প্রস্ততি নিয়েছে সারাদেশে। মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণকে পরিপাটি করে তোলা হয়েছে।
জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিজয় দিবসে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিসৌধে জাতির পক্ষে প্রথম ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপ্রতি ও প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন।
সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে মুক্তিপাগল বাঙালির স্পৃহা একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর এসে পূর্ণতা পায়। সেদিন ৩০ লাখ শহীদের রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধীনতা বাধ ভাঙা উল্লাস পল্লবিত হয় রেসকোর্স ময়দানে। আত্মসমর্পনের দলিলে স্বাক্ষর করেন পরাজিত পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি। সেদিন দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে বিজয়ের আনন্দ।
ভোরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩১ বার তোপধ্বনীর মধ্যদিয়ে বিজয়ের ৪৪তম বার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধকে ধুয়ে মুছে প্রস্তুত করা হয়েছে।
বিজয় দিবসে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিসৌধে জাতির পক্ষে প্রথম ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপ্রতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপর স্মৃতিসৌধ খুলে দেয়া হবে সর্বস্তরের মানুষের জন্য।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন আর নানা সাজে সজ্জিত হয়ে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র্যা লির করবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।
আওয়ামী লীগের র্যা লিটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে শেষ হবে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি দলের নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করবে।
এছাড়া রাজধানীতে বিজয় দিবসের শোভাযাত্রা করবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। শোভাযাত্রাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে টিএসসি চত্বরে।