জাতীয়

পূর্ব দিগন্তের সূর্যটা ছিল বিজয়ী বাংলার

মহান বিজয় দিবস আজ

বিজয় দিবস
বিজয় দিবস

পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল...রক্ত লাল...। আজ ১৬ ডিসেম্বর। বুধবার মহান বিজয় দিবস। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবের দিন।

দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙের এমন অনন্য ইতিহাস আর কোনো জাতির নেই।

রাজধানীর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে আজকের দিনেই হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর সেনা-শিরোমণি জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন আর অস্ত্র সমর্পণ করে তার অনুগত সেনারা। পরাজয় মানতে বাধ্য হয় পাকিস্তান।

যাত্রা শুরু হয় মুক্ত-স্বাধীন লাল-সবুজ পতাকার বাংলাদেশের। কাল প্রবাহে কেটে গেছে ৪৪ বছর।

মহান বিজয় দিবস। এদিন, পূব আকাশে যে সূর্যটি উদিত হয়েছিল তা ছিল বাংলাদেশের। বাঙালি জাতির বিজয়ের সূর্য।

বঙ্গবন্ধুর ঘোষণায় ২৬ মার্চ থেকেই বাংলাদেশ স্বাধীন আর যুদ্ধের ডাক। এই ভূখণ্ডকে শ্বাপদ-সংকুল করে তুলেছিল যে হানাদার পাকিস্তানিরা, তাদের বিতারিত করতেই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে জাতি। ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়ে সেই যুদ্ধে চিরশত্রুকে পরাজিত করার গৌরব। হাজার বছরের শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি। পদ্মা-মেঘনা-ব্রম্মপুত্র-যমুনাবাহিত বাংলা

ব-দ্বীপের ৪ হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরব-অহঙ্কারের দিন আমাদের বিজয় দিবস।

অন্ধকার থেকে আলোর পথের সফল অভিযাত্রী এই ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের মুক্তিকামী মানুষ সেদিন প্রমাণ করেছিলেন পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির চেতনা, প্রবল দেশপ্রেম আর সাহসের কাছে পরাক্রমশালী কোনো সশস্ত্রবাহিনীই কিছু নয় বলে জানান ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

আর এমন অর্জনের পেছনের ইতিহাস মোটেই সুখকর ছিল না। শান্তিপ্রিয় ও নিরীহ মানুষের এই জনপদ কখনো মুঘল, কখনো পাঠান, আবার কখনো ছিল ব্রিটিশ শাসনের অধীন। ১৯৪৭-এ ব্রিটিশের কবলমুক্ত হয়েও ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর শোষণ নিপীড়নের শিকার হয় বাঙালি। শুরু হয় দীর্ঘ সংগ্রাম।

প্রথমে ভাষার দাবিতে, তারপর স্বাধিকার, ধীরে ধীরে স্বাধীনতার আন্দোলন ও সবশেষ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে চূড়ান্ত মুক্তি সংগ্রামে এক সাগর রক্ত ঢেলে দেয় বীর বাঙালি। একাত্তরে দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বাঙালির কাছে নত করে পাকিস্তানিরা।

বাধভাঙ্গা জোয়ারের মত রাস্তায় নেমে আসেন মানুষ। এক আওয়াজ..'জয় বাংলা'।

সবার মধ্যে বিজয়ের হাসি আর আনন্দাশ্রু। জনস্রোত ছুটছে এক গন্তব্যে -- ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে। যেখান থেকেই নয় মাস আগে জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব উচ্চারণ করেছিলেন মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সেই অঙ্গীকার।

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারে সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।

রক্ত দিয়ে কেনা সেই মুক্তি, সেই স্বাধীনতা, পল্লবিত হলো রেসকোর্স ময়দানে। আত্মসমর্পনের দলিলে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি। দেশময় ছড়িয়ে পড়লো বিজয়ের আনন্দ। আর এ বিজয়ই সারা বিশ্বে অনন্য।

সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে মুক্তিপাগল বাঙালির স্পৃহা একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণতা পায় তা অবিনশ্বর রাখার দায়িত্বও লাল -সবুজের দেশের প্রতিটি নাগরিকের। এর সঙ্গে মিশে আছে মাতৃভূমির মুক্তি, দেশের জন্ম-ইতিহাস। সে চেতনাতেই উজ্জীবিত হতে হবে বারবার।

দেশটিভি/টিআরটি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

সিলেটে ভোক্তা অধিদপ্তর ও সিসিএস-এর সচেতনতামূলক সভা

ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন: প্রধানমন্ত্রী

চোরাগলি দিয়ে সরকার উৎখাতের সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৩৭১, মৃত্যু ৬২৮৪ জনের

খুলনায় দুই দিনের ‘পরিবহন ধর্মঘট’ চলছে

২৫ অক্টোবর আংশিক সূর্যগ্রহণ

ভোজ্যতেল নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সুদানে জাতিগত সংঘর্ষ নিহত অন্তত ১৫০

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ