বিজয় দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যান ছিল লাল সবুজের মেলা। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শ্রদ্ধা জানানো হয় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।
আর সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণের দৃশ্য মঞ্চায়ন করে ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। কণ্ঠে সবার একই শপথ- সাম্প্রদায়িক শক্তি আর জঙ্গিবাদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানের।
ঢোলের বাদ্যের তালে তালে নেচে-গেয়ে এবার বিজয় দিবসে শোভাযাত্রা বের করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। বরেণ্য সব ব্যক্তিদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড এতে শোভা পায়। বর্ণিল সাজ-সজ্জা আর বিজয়ের উল্লাসের মধ্যেও মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা সবার চোখে-মুখে। শোভাযাত্রাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন ও শাহবাগ মোড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জোটের নেতা রামেন্দু মজুমদার বলেন, বিজয়ের ৪৪তম বার্ষিকীতে বুদ্ধীজীবী হত্যার অন্যতম হোতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকরের মধ্যদিয়ে জাতি কিছুটা হলেও কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। নাচ গান আর কবিতায় শ্রদ্ধা জানানো হয় বীর শহীদের প্রতি।
মঞ্চায়ন করা হয় একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পনের দৃশ্য।
মুক্তিযোদ্ধারা তরুণ প্রজন্মের হাতে পতাকা হাতে তুলে দিয়ে শপথ পড়ান সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সহ-সভাপতি, লে. জে. হারুন অর রশীদ।
শপথে সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথা নতো না করার কথা বলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সহ-সভাপতি, লে. জে. হারুন অর রশীদ।
এছাড়াও সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সম্মিলিত বাদক দলের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এদিকে, জাতীয় পতাকার রঙ লাল-সবুজের সাজে আর জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বিজয় উৎসব পালন করল ছায়ানট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে সমবেত কণ্ঠে দেশের গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। সম্মিলিত কণ্ঠে ধ্বনিত হয় প্রাণের স্লোগান- জয় বাংলা'।
সবুজ মাঠের মাঝখানে লাল বৃত্তের ভেতর বর্গাকার উঁচু মঞ্চ। ঠিক জাতীয় পতাকার আদলে তৈরি করা হয়।
আপামর বাঙালির মাঝে দেশাত্মবোধের চেতনা ছড়িয়ে দিতেই, ছায়ানট আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এই বিজয় উৎসব। মুখে বাংলা, বুকে বাংলা, আমার সোনার বাংলা- কণ্ঠে সবার এই আহ্বান।
উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। উপস্থিত ছিলেন ছায়ানটের সভাপতি ড. সনজিদা খাতুন।
সম্মিলিত কণ্ঠে জয় বাংলা আর দেশের গানে, নৃত্যের তালে তালে উদযাপন করা হয় বিজয়ের ৪৪তম বার্ষিকী।