আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পৌর নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি।
এতে বলা হয়, ৯০৪ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ২২৪ জনই বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরুতে পারেননি। আর ৩৪১ জন স্নাতক বা স্বাতকোত্তর পাশ করেছেন। এদের মধ্যে- আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রায় একই রকম।
এছাড়া, অন্যান্য নির্বাচনের মতো পৌরনির্বাচনেও ব্যবসায়ীদের আধিক্য সবচেয়ে বেশি। ৯০৪ মেয়র প্রার্থীর প্রায় তিন ভাগই ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগের ২২১ জনের মধ্যে ১৬৫ জন ব্যবসায়ী। আর বিএনপির ২০৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ব্যবসায়ী ১৬২ জন। অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র ৪৭৭ জনের মধ্যে ৩১৫ জন ব্যবসায়ী।
আর পৌর নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীর ২১৯ জনের বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগের ২২১ জন প্রার্থীর ৩৩ জন কোনো না কোনো মামলার আসামী আর বিএনপির ২০৬ জনের মধ্যে ৯৬ জন।
সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে সুজনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয় স্থানীয় পর্যায়েও ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে ঢুকে যাচ্ছে। বড় দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যেও দেখা গেছে একই আচরণ।
কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সমালোচনা করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আশাবাদী হওয়া দুরহ আর এর জন্য নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী। কমিশনের নিস্ক্রিয়তা এবং নজরদারিত্বের অভাব থাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভিন্ন মত পোষণ করলেও প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একই আচরণ প্রকাশ পেয়েছে।
কমিশনের নজরদারি না বাড়লে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া কখনোই সম্ভব নয় বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এদিকে, দেশে এবারই প্রথম মেয়র পদে পৌরসভা নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এমনকি ২০০৮ সালের পর বড় রাজনৈতিক দুই দল একইসঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তাই দেশবাসীর বিশেষ দৃষ্টি এখন নির্বাচনকে ঘিরে। তবে নির্বাচন কেমন হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোসহ জনমনে সংশয় রয়েছে।