ভবিষ্যতে যেন বিডিআর বিদ্রোহের মতো আত্মঘাতি পরিস্থিতির তৈরি না হয় সে বিষয়ে সর্তক থাকার জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার বিজিবি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাজধানীর পিলখানায় কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে দেশে ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
বিডিআর বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পৃক্ত শৃঙ্খলহীন ও বিপদগামী সদস্যদের বিচারের মাধ্যমে এ বাহিনীকে সম্পূর্ণ কলঙ্কমুক্ত করা হয়েছে-- উল্লেখ করে বিজিবি এর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিদ্রোহের ওই ঘটনাটিকে ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ওইসময় সরকার গঠনের পরপরই বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের মতো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছিল। সম্মিলিত সহযোগিতায় সেদিনের সঙ্কটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছিলাম।
বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা আরো বলেন, বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পৃক্ত উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সদস্যদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে এ বাহিনী এখন সম্পূর্ণ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।
শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি আর আপনাদের কঠোর পরিশ্রমে এ বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা সদা সতর্ক থাকবেন--ভবিষ্যতে কখনো এমন আত্মঘাতী সংঘাত যেন সৃষ্টি না হয়।
এসময় উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিজিবিকে একটি দক্ষ, চৌকস, কৌশলী ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন তিনি।
এর আগে সকালে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালামগ্রহণ করেন তিনি।
পরে বিজিবির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৫৬ জনকে পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ট্রিক ড্রিল ও ডগ ড্রিল প্রদর্শনী উপভোগ করেন।
কুচকাওয়াজ শেষে চুয়াডাঙ্গা, ঠাকুরগাঁও ও খাগড়াছড়িতে নবনির্মিত ৩টি ৫০ শয্যার বর্ডার গার্ড হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং সীমান্ত ব্যাংকের লোগো উন্মোচন করা হয়।