আজ বারোই রবিউল আউয়াল- মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জন্ম ও ওফাত দিবস।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণী দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও।
চৌদ্দশ বছর আগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ( সা: )-এর আবির্ভাব ও ইসলাম ধর্মের প্রচার আলোড়ন তুলেছিল। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে তৌহিদের মহান বাণী নিয়ে আলোর দিশারী হিসেবে এসেছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
৫৭০ খ্রীস্টাব্দের এই দিনে মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সেই মহামানবের জন্ম ও ওফাত দিবস— বারোই রবিউল আউয়াল উদযাপনই পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী।
৪০ বছরে নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে মানবজাতিকে কুসংস্কার, গোঁড়ামি ও অন্যায়ের শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তি ও শান্তির পথে আহ্বান করেছিলেন মহানবী। প্রচার করেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। ৬৩ বছরে দেহত্যাগের আগপর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ বছর শান্তির বার্তাই ছড়িয়ে গেছেন ইসলাম ধর্মমতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব নবুয়তের শেষ এই নবী।
এ কারণেই পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
ইসলামের পথ ও মহানবী (সাঃ)-এর আদর্শ অনুসরণেই নিহিত মানবজাতির অফুরন্ত কল্যাণ।
মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
দিনটি উদযাপন উপলক্ষ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পক্ষকাল ব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন মহানবীর জীবন ও কর্মের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা। এছাড়া মিলাদ মাহফিল দোয়া-দুরুদ জিকির আসকার ও নানা আয়োজনে দিনটি পালন করছেন মুসলমানরা।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে দিনটি উপলক্ষে বের করা হয় জশনে জুলুশ বা ঈদে মিলাদুন্নবীর শোভাযাত্রা। এসময় বিভিন্ন ইসলামী সংগীত পরিবেশন করা হয়।
চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরে আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদীয়া মাদ্রাসা থেকে বের করা হয় জশনে জুলুশের শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জামেয়া মাদ্রাসায় এসে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
এদিকে, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শোভাযাত্রা, সমাবেশ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে রংপুর, দিনাজপুর, চাঁদপুর, কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে।