ব্যবসা করতে নয়—ব্যবসায়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে ক্ষমতায় এসেছি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
পণ্যের বহুমুখীকরণ ও উৎপাদিত পণ্যের জন্য নতুন নতুন রপ্তানি বাজার খোঁজার জন্য শিল্প-উদ্যোক্তাসহ ব্যবসায়ীদের তাগিদ দেন শেখ হাসিনা।
দেশের উন্নয়নে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসা করতে নয়—ব্যবসায়ের ক্ষেত্র তৈরি করতে ক্ষমতায় এসেছি। আওয়ামী লীগ ব্যবসা-বান্ধব সরকার।
বাণিজ্য মেলার গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে দেশের পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা আরো বাড়ছে। পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করতে হবে।
উৎপাদিত পণ্যের জন্য বিশ্বে বাজার খোজারও তাগিদ দিয়ে তিনি আরো বলেন, কোন দেশে কোন ধরনের পণ্যের চাহিদা রয়েছে তা বিশ্লেষণ করতে হবে ব্যবসায়ীদের। কোন রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন করা যায় সে দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
গত ৭ বছরে পণ্য রপ্তানি, রিজার্ভ ও প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।
পরে মেলা প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘুরে দেখেন বেশ কিছু স্টল।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমেদসহ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত এ মেলা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
মেলায় প্রবেশ মূল্য ধরা হয়েছে প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে ৩০ টাকা ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা।
জানা গেছে, এবার বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মেলায় ৫ মহাদেশ থেকে ২২টি ২২টি দেশের ৫৫৩টি স্টল থাকছে। এর মধ্যে ৭টি দেশ প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে।
এদিকে, মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব), আনসার ও বেসরকারি সিকিউরিটি ফোর্স নিয়োজিত থাকছে।
এছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, গেইট, পার্কিং এরিয়াসহ চারপাশে ১০০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এসব ক্যামেরা মনিটরিং করবে।