মতপার্থক্য দূরে রেখে অভিন্নতা নির্ধারণ করে জনমত গঠনের মাধ্যমে জঙ্গি ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় সবাইকে ঐকবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে সামাজিক প্রতিরোধ বিষয়ক এক আলোচনায় এ কথা বলেন তারা।
এদেশে সমাজ এখন বহুধাবিভক্ত বলে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার কাজটির উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
আমাদের সমাজ একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ নয়, বহুধাবিভক্ত। বহুধা বিভক্ত সমাজ দিয়ে আমরা সেটা কতটুকু করতে পারব?”
বৈঠকের আলোচনায় পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরার মাধ্যমে জঙ্গিবাদবিরোধী মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান ছিল কয়েকজনের বক্তব্যে।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আমাদের শিক্ষাও তো বহু ভাগে বিভক্ত— পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে সকল ধর্মের মূলকথা এনে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করার বিষয়ও সময়সাপেক্ষ।
পাঠ্যপুস্তকে ধর্মের মূলকথা তুলে ধরার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন,
পাঠ্যপুস্তকে এটা তুলে ধরতে গেলে প্রথমে নীতি নির্ধারিত হতে হবে তারপর পাঠ্যপুস্তক লেখা হবে, এরপর ছাত্র-ছাত্রীরা পড়বে, মূল্যবোধ গড়ে তোলা তারও পরের ব্যাপার।
এ কারণে শুরুতে দরকার জনগণের ঐক্য— এ ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে অতীতে আমরা বিভিন্ন রকম সামাজিক দাঙ্গা প্রতিরোধ করেছি এখন জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ করতে পারব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জঙ্গিবাদের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাদের যোগ আছে অর্থের জোগানও তারা বিভিন্ন সময় দেশের বাইরে থেকে পেয়ে থাকে সে বিষয়ে সরকার নজর রাখবে।
জঙ্গিবাদ দমনে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদীরা ইসলামের যে ব্যাখ্যা দেয়, তা ভয়ঙ্কর। সেটার বিরুদ্ধে সমবেতভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। যারা ধর্মীয় ব্যাপারে সঠিক ব্যাখ্যা দেন এবং যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এইক্ষেত্রে জরুরি।
এ সময় রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ৭২ এর সংবিধানের চেতনায় গড়ে তোলার আহবান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যামিরেটস ড. আনিসুজ্জামান।
সেমিনারে আসা বক্তারা বলেন, মত বিরোধকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার সুযোগে মৌলবাদীরা বাংলাদেশের শিকড়বিহীন মতাদর্শ ছড়িয়ে আত্মপরিচয় ভুলিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে সামাজিক প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনার আয়োজন করে ওয়ার ক্রাইমস্ ফ্যাক্টস্ ফাইন্ডিং কমিটি।
মৌলবাদীরা ক্রমাগত বাংলাদেশের আত্মপরিচয় ভুলিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালালেও তা প্রতিরোধে জোরালো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে জানান ডা. নুজহাত ও মেজর রশিদ।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও এদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে শিক্ষাক্রমে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তারা।