বিশ্ব ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতে শান্তি ও মঙ্গল কামনার মধ্যদিয়ে প্রথমপর্ব শেষ হয়েছে। রোববার বেলা ১১টা ৮ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন লাখো মুসল্লি।
এবছর ৫০তম আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ভারতের শীর্ষস্থানীয় তাবলিগ মুরব্বি মাওলানা সা’দ । মোনাজাতের আগে হেদায়েতি বয়ান করেন তিনি।
মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকে লাখো মুসল্লি টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে আসেন। মুসল্লিদের আগমনে টঙ্গী শহর, ইজতেমাস্থল ও এর আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিরা দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য দোয়া করেছেন। বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ চেয়ে মহান আল্লাহর দরবারে আকুতি জানান। জানান পাপ থেকে মুক্তির মিনতি।
মুসল্লিরা জানিয়েছেন, ইজতেমার শিক্ষা তারা ছড়িয়ে দেবেন ব্যক্তি ও সমাজজীবনে তা কাজে লাগাবেন।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও ইসলামী দেশগুলোর কূটনীতিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ইজতেমা ময়দানে বিশেষ মঞ্চে মোনাজাতে অংশ নেন।
এবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।
রাজধানীর গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকেই বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে।
বিশ্ব ইজতেমায় ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল ছিলেন মুসল্লিরা। মুরুব্বীদের বয়ানে ঈমান আমল ও আখলাকের কথা শুনেছেন সমবেত দেশি-বিদেশি লাখ লাখ মুসল্লি।
সকাল থেকেই টঙ্গী অভিমুখী বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে মুসল্লিদের ভিড় ছিল।
টঙ্গীর রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে আখাউড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রেলপথে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে। এ ছাড়া আখেরি মোনাজাতের আগে ও পরে সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে।
এর আগে গাজীপুরের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শনিবার রাত থেকে রোববার আখেরি মোনাজাতের সময় পর্যন্ত ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে কুড়িল বিশ্বরোড, সাভারের বাইপাইল থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ি ছাড়া সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
টঙ্গীর তুরাগপাড়ে রাতভর জিকির-আসগারের পর ভোরে থেকে আমবয়ান মধ্যদিয়ে চলছে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জমায়েত বিশ্ব ইজতেমা।
পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে র্যা ব-পুলিশ সদস্যরা। মুসল্লিদের আনা নেয়ার জন্য চালু রয়েছে বিশেষ বাস সার্ভিস।
এবছর দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ঢাকাসহ ৩২টি জেলার মুসল্লিরা এবার দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেন।
এরমধ্যে প্রথম পর্বে ১৬ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন। আর দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবেন বাকি ১৬ জেলার মুসল্লিরা। গাজীপুরসহ বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেবেন আগামী বছর।