স্বাধীনতার এত বছর পরেও রাজাকাররা বাংলাদেশে বহাল তবিয়তে আছে—তারা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে এই রাজাকাররা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
রোববার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনে শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা ৭১ এ পাকিস্তানিদের পরাজিত করেছি— আমরা কখনও পরাজিত হই নাই, বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে থাকবে তা পাকিস্তানিরা কখনও ভাবতে পারেনি। ৪০ বছর ধরে ষড়যন্ত্র করে তারা পারে নাই এখনও পারবে না।
পাকিস্তানিরা যা কখনো মেনে নিতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা (পাকিস্তানিরা) ৪৪ বছর ষড়যন্ত্র করেও সফল হতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও সফল হতে পারবে না।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, দেশে এবং দেশের বাইরে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তৎপর রয়েছে— রাজাকাররা স্বাধীনতার পরও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তারা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ষড়যন্ত্রকে নস্যাত করে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় আমির হোসেন আমু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেন, যে দিন থেকে যুদ্ধাপরাধীদের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে, সেদিন থেকে মূলত তিনি আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
তার আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করা এবং যেটা পাকিস্তানিরা চায়, এই দেশকে আবার সেই খাতে প্রবাহিত করতে বলে জানান তিনি।
আমু আরো বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে সেদিন যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারা এখনও তা মেনে নিতে পারেনি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চক্রান্ত থেকে শুরু করে সব ধরনের চক্রান্ত চলছে।
শেখ হাসিনাকে ১৯ বার প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে— বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার জন্য বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয় সে চেষ্টা এখনও চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সকাল ৭টায় রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসাবে দলীয় নেতাদের নিয়ে ফুল দেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন- দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, এইচ টি ইমাম, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে ফেরার দিনটি নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে। রোববার সকালে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের পর পাকিস্তানে বন্দিদশা থেকে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু। দিনটি জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের কারণে দিবসটিতে আওয়ামী লীগের সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হবে একদিন পরে ১১ জানুয়ারি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।