গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারা বিএনপি ও জামাত সহ্য করতে পারছে না—বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বর্তমান সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি নেত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন এর তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কারও কোনো কটাক্ষ সহ্য করা হবে না। যারা দেশের ইতিহাসকে বিকৃত করবে, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
ভাষণে ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে সকলকে ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, দশম জাতীয় নির্বাচন ঠেকানোর নামে বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিএনপি জামাত যে সহিংসতা চালিয়েছে, তা শুধুমাত্র একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও রাজাকার আল বদরদের তাণ্ডবের সঙ্গেই তুলনা চলে।
এ সব করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও গত দুই বছরে দেশের অর্থনৈতিক, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, জনশক্তি রপ্তানি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমস্যা সমাধানসহ সফলতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল, দেশ যখন উন্নয়নের সোপানে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি দোসররা আবারও অস্থিশিলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগকে সফল করতে দেশবাসীর সহায়তাও চান তিনি।
এর আগে ত্রিশ মিনিটের ভাষণের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় ৪ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধে নিহত লাখো শহীদ এবং গত বছর বিএনপি-জামাতের সহিংসতায় নিহতদের স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।